ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি ও সেই সাথে পদ্মা নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় তিন হাজার পরিবার। গবাদি পশু,বৃদ্ধ ও শিশুদের নিয়ে বেশি দুর্ভোগে রয়েছে চরাঞ্চলের খেটে খাওয়া মানুষদের।
চেয়ারম্যানদেন দেওয়া তথ্য মতে চরাঞ্চলের কিছু পরিবার আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিলেও অনেকে আবার ঘরের ভেতর মাচা বানিয়ে বসত ভিটেয় রয়ে গেছেন।
উপজেলার চরঝাউকান্দা ইউপি চেয়ারম্যান মো. ফরহাদ হোসেন মৃধা জানান, তার ইউনিয়নের চরকালিকাপুর,শহর মোল্যার ডাঙ্গী,রেজি চোকদারের ডাঙ্গী,চৌধুরী ডাঙ্গী,উত্তর নবাবগঞ্জ,চর কল্যাণপুর,গোপালপুর,ক্লাস্টার ভিলেজ,মোল্যা ডাঙ্গী ও নুরা মাতুব্বরের ডাঙ্গীতে প্রায় চার শতাধিক পরিবার গত কয়েকদিন ধরে পানিবন্দি রয়েছে।
আরও পড়ুন: বন্যার পানি বাড়ছে, বাড়ছে নৌকার কদর
এ ছাড়া গাজিরটেক ইউনিয়নের জয়দেব সরকারের ডাঙ্গী,চর হোসেনপুর,বালাডাঙ্গী,বৌদ্ধ ডাঙ্গী,মাঝি ডাঙ্গী,মধু ফকিরের ডাঙ্গী,হাজীগঞ্জ গ্রাম,খালপার ডাঙ্গী,খালাশী ডাঙ্গী ও বিন্দু ডাঙ্গী যথাক্রমে ১,২,৩ ও ৮নং ওয়ার্ডে ১২ শতাধিক পরিবার পানি বন্দি রয়েছে বলে জানান চেয়ারম্যান মো. ইযাকুব আলী ও ২নং ওয়ার্ড মেম্বার মো. বাবুল হোসেন।
সদর ইউপি চেয়ারম্যান আজাদ খান জানান, তার ইউনিয়নের এমপি ডাঙ্গী,এমকে ডাঙ্গী,ফাজেলখার ডাঙ্গী,বালিয়া ডাঙ্গী,হাজী ডাঙ্গী,বাদুল্যা মাতুব্বরের ডাঙ্গী,মাথা ভাঙ্গা,কামার ডাঙ্গী ও খালাশি ডাঙ্গী গ্রামে পাঁচ শতাধিক পরিবার পানি বন্দি রয়েছে।
চর হরিরামপুর ইউপি চেয়ারম্যান আমির হোসেন খান জানান, ছমির ব্যাপারীর ডাঙ্গী,আমিন খার ডাঙ্গী,ইকরাম মাতুব্বরের ডাঙ্গী,হাজার বিঘার কিছু অংশ,জনু বিস্বাশের ডাঙ্গী ও ৭ নং হরিরামপুরে প্রায় ১হাজার পরিবার পানি বন্দি হয়ে পরেছে। সেই সাথে চরাঞ্চলে কয়েকটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ পানিতে ডুবে যাওয়ার পাশাপশি কাঁচা সড়ক ভেঙে যাতায়াতে চরম ভোগান্তিতে রয়েছে বন্যার্তরা।
শনিবার মুঠোফোনে কথা হলে ইউপি চেয়ারম্যানরা জানান, বন্যার্তদের মাঝে দ্রুত ত্রাণ সামগ্রী,পানি বিশুদ্ধ করণ ট্যাবলেট ও খাবার স্যালাইন বিতরণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
পানি বন্দি পরিবারে সরকারি কোন সহায়তা দেওয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জেসমিন সুলতানা বলেন, এ বছর বন্যা হওয়ায় প্রথম পর্যায়ে শুক্রবার গাজিরটেক ইউনিয়নে মৈজদ্দিন আশ্রয়কেন্দ্র অবস্থান নেওয়া ৪০ পরিবারের মাঝে শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। ইউপি চেযারম্যান ও সদস্যদের পানি বন্দি পরিবারের সঠিক তালিকা তৈরী করতে বলা হয়েছে। তালিকা শেষে দ্রুত বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সকল পরিবারের মাঝে পর্যায়ক্রমে ত্রাণ বিতরণ করা হবে।
ইত্তেফাক/এমআরএম
