১৬ বছরে দেশ থেকে ৯৩ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে: অ্যাটর্নি জেনারেল 

আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০২৫, ১৯:৩৬

বাংলাদেশের ভেতর থেকে গত ১৬ বছরে ৯৩ বিলিয়ন ডলার লুটপাট করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে উল্লেখ করে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, শের ই বাংলা এ কে ফজলুল হকের এই মৃত্যুবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়ে নিবেদন রাখতে চাই। এই ৯৩ বিলিয়ন ডলার যখন দেশে ফিরিয়ে আনা হবে শের-ই-বাংলাকে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে ছয় লেনের রাস্তা করুন এবং বরিশালের উন্নয়ন করুন। তাহলে তাঁর বিদেহী আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে।

শনিবার (২৬ এপ্রিল) বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে বরিশাল বিভাগ সমিতি আয়োজিত শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হকের ৬৩তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

বরিশাল বিভাগ সমিতি’ ঢাকা’র সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. জিয়াউল কবির দুলুর সভাপতিত্বে ও বরিশাল বিভাগ সমিতি’ ঢাকা’র সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এনামুল ইসলাম রুবেলের সঞ্চালনায় আয়োজিত আলোচনা সভায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন র‌্যাবের মহাপরিচালক একেএম শহিদুর রহমান, ডাকসুর সাবেক জিএস ডা. মোশতাক হোসেন, রেলের সাবেক মহাপরিচালক বীর মুক্তিযোদ্ধা সুলতান আহমদ তালুকদার, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মাগবুর রহমান, সাবেক সচিব শফিকুল ইসলাম, সাবেক অতিরিক্ত সচিব জ্ঞানেন্দ্রনাথ বিশ্বাস, বরিশাল বিভাগ সমিতির সহ-সভাপতি মো. শওকত ইসলাম, সহ-সভাপতি শরীফ সারোয়ার আশা, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রহমান হাওলাদার, লায়ন মো. ফারুক রহমান, দক্ষিণবঙ্গের উন্নয়ন দাবি তুলে ধরেন প্রকাশনা সম্পাদক সেলিম মিয়া। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন  বরিশাল বিভাগ সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এনামুল ইসলাম রুবেল।

অ্যাটর্নী জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ১৬ বছরে লুটপাট করে পাচারকৃত ৯৩ বিলিয়ন ডলার মানে আমাদের প্রায় ১৬ বছরের বাজেটের সমান। এতোগুলো টাকা লুটপাট করে নিয়ে গেছে। আজকের এই বাংলাদেশে দাঁড়িয়ে শের-ই-বাংলার মতো নেতৃত্বের খোঁজ করছি। কারণ একদিকে মাফিয়া আরেকদিকে ৯৩ মিলিয়ন ডলার পাচারকারী শক্তি, অন্যদিকে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ শিক্ষার অধিকার, কর্মের অধিকার, খাদ্য, বস্ত্র বাসস্থানের অধিকারের জন্য ছুটছে।

তিনি বলেন, বিগত তারা ১৬ বছরে বাংলাদেশের মানুষের যে মৌলিক অধিকার চর্চা করতে দেয়া হয়নি। ভোটাধিকার থেকে সাধারণ মানুষকে বঞ্চিত করে রাখা হয়েছে। যেটা শের ই বাংলা এ কে ফজলুল হকের আদর্শের পরিপন্থী।
 
একেএম শহিদুর রহমান বলেন, শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক কেবল অবিভক্ত বাংলার নেতা ছিলেন না, সারা উপমহাদেশেরই নেতা ছিলেন। তিনি এদেশের মানুষের শিক্ষা রাজনীতি সমাজ সংস্কারসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়নের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন। তার আদর্শ ছড়িয়ে দিতে হবে।

ডা. মোশতাক হোসেন বলেন, শের ই বাংলা এ কে ফজলুল হক ঔপনিবেশিকতার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের পাশাপাশি এদেশের মানুষের স্বাধীনতার জন্য লড়ে গেছেন এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণীকে রাজনীতির কেন্দ্রে নিয়ে এসেছিলেন। তার জীবনের অনন্য বৈশিষ্ট্য নিয়ে তরুণ প্রজন্মের গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।
 
বরিশাল বিভাগ সমিতি’ ঢাকা’র সভাপতি মো. জিয়াউল কবির দুলু বলেন, শের ই বাংলা এ কে ফজলুল হক বাঙালি জাতির অহংকার। বিংশ শতাব্দীর গণজাগরণের মহানায়ক ছিলেন। তিনি বাংলাদেশের শোষিত ও বঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। তার অবদানের প্রতি সম্মান জানিয়ে পদ্মা সেতুকে শের ই বাংলা এ কে ফজলুল হকের নামে নামকরণের দাবি জানিয়ে আসছি ১৯৯৬ সাল থেকে, আমাদের সেই দাবি অব্যাহত আছে। 
বরিশাল বিভাগ সমিতি’ ঢাকা’র সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এনামুল ইসলাম রুবেল বলেন, শের ই বাংলার রাজনৈতিক জীবনের প্রধান লক্ষ্য ছিল বাংলার অবহেলিত, শোষিত, নির্যাতিত কৃষক শ্রকিদের পাশে দাঁড়ানো। তিনি ছিলেন হিন্দু মুসলমানের মিলনের অগ্রদূত। জমিদারের অত্যাচারে জর্জরিত কৃষক প্রজাদের মুক্তির জন্য তিনি ঋণসালিশি বোর্ড গঠন করেন।

বক্তারা বলেন, শের ই বাংলা এ কে ফজলুল হককে শোষিত মানুষের বুকের বাম পাশে রয়েছেন স্বপ্নের সারথি হয়ে। বুকের বাম পাজরে। কারণ তিনি এদেশের মানুষের স্বাধীনতার জন্য লড়ে গেছেন। 

 

ইত্তেফাক/এমএএস