ফৌজদারি কার্যবিধিসহ (সিআরপিসি) পুরনো আইনের সংস্কারের প্রস্তাব জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তারা। এছাড়া জনবল সঙ্কট ও পদোন্নতি জটিলতা দূর করা, আদালতে থাকা লাখ লাখ মামলাজট নিষ্পত্তি, অফিস ও আবাসন সঙ্কট নিরসনে প্রয়োজনীয় স্থাপনা নির্মাণ এবং সিআইডির জন্য আধুনিক ল্যাব প্রতিষ্ঠাসহ নানা দাবি জানানো হয়েছে।
পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে বুধবার রাতে রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, সিনিয়র সচিব ও সচিবদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এমন দাবি জানান তারা। উপদেষ্টাদের পক্ষ থেকেও দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। একইসঙ্গে ফ্যাসিবাদী পুলিশের পরিবর্তে জনগণের পুলিশ হওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন কয়েকজন উপদেষ্টা।
পুলিশের আইজিপি বাহারুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপদেষ্টাদের মধ্যে ছিলেন- আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল; স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী; গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান; ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব; প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মো. খোদা বখস চৌধুরী।
এছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি; আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব শেখ আবু তাহের; গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম; তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের সচিব শীশ হায়দার চৌধুরী; অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার উপস্থিত ছিলেন।
সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন মতবিনিময় সভা বাস্তবায়ন উপ-কমিটির সভাপতি ও হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজি মো. দেলোয়ার হোসেন মিঞা। অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপার থেকে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ পুলিশের অপারেশনাল কার্যক্রম আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। উপস্থিত উপদেষ্টারাও পুলিশ কর্মকর্তাদের উত্থাপিত বিভিন্ন প্রস্তাব বাস্তবায়নের আশ্বাস প্রদান করেন।
বৈঠকে উপস্থিত একাধিক কর্মকর্তা জানান, সিআরপিসি সংস্কারসহ বেশ কিছু পুরনো আইনের সংস্কার, উচ্চ আদালতসহ সারা দেশের আদালতগুলোতে বছরের পর বছর ধরে ঝুলে থাকা লাখ লাখ মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি, পুলিশ বাহিনীর সংস্কারসহ বিচার সংশ্লিষ্ট নানা দাবি ও প্রস্তাব তুলে ধরা হয় আইন উপদেষ্টার কাছে। প্রস্তাব শুনে উপদেষ্টা সেগুলো বাস্তবায়নের বিষয়ে আশ্বাস দেন। এ সময়ে আইন উপদেষ্টা পুলিশের মর্যাদা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার করার কথা বলেন। তিনি স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন সময়ে পুলিশের অনন্য ভূমিকার প্রশংসা করেন।
সূত্র জানায়, জনবল নিয়োগ, পদোন্নতি জটিলতা নিরসনসহ যেসব আবেদন পেন্ডিং হয়ে আছে, সেগুলো দ্রুত নিষ্পত্তিসহ উন্নত প্রশিক্ষণের বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টসহ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কাছে প্রস্তাব তুলে ধরেন। তারাও দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেন। এ সময় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। এটি আরও উন্নত করার সুযোগ রয়েছে। তিনি গত ঈদুল ফিতরসহ অন্যান্য অনুষ্ঠানে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য পুলিশ সদস্যদের ধন্যবাদ জানান।
ডিএমপির একজন অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, অর্থ উপদেষ্টার কাছে বাহিনীর জন্য বাজেট বরাদ্দ বাড়ানোসহ আর্থিক নানা প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। গণপূর্ত উপদেষ্টার কাছে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা উপজেলায় কার্যালয় ও আবাসনের জন্য স্থাপনা তৈরির আবেদন জানান। এ সময় গণপূর্ত উপদেষ্টা বলেন, ৫ আগস্টের পরের পুলিশ হবে জনগণের পুলিশ। তিনি পুলিশকে ফ্যাসিবাদী পুলিশের পরিবর্তে জনগণের পুলিশ হওয়ার আহ্বান জানান।
মতবিনিময় সভায় অংশ নেওয়া চট্টগ্রাম বিভাগের একটি জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) বলেন, অনলাইন জিডির কার্যক্রম উন্নত করা, সিআইডির জন্য আধুনিক সাইবার ল্যাব প্রতিষ্ঠাসহ অনলাইনে পুলিশি কার্যক্রম বাড়াতে নানা প্রস্তাব তুলে ধরা হয় তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টার দপ্তরে। এ সময় এ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, পুলিশ তখনই জনগণের পুলিশ হবে যখন পুলিশের কার্যক্রমে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়বে। পুলিশের তথ্যপ্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে আইসিটি বিভাগ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
