কুষ্টিয়ার প্লান্ট ম্যানেজারসহ বিএটি চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা 

আপডেট : ০৮ মে ২০২৫, ১৮:৫৮

শ্রম আইন লঙ্ঘনের দায়ে ব্রিটিশ আমেরিকান ট্যোবাকোর (বিএটি) কুষ্টিয়াস্থ প্লান্ট ম্যানেজারসহ ঊর্ধ্বতন চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শ্রম আদালতে মামলা করা হয়েছে। কল কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের কুষ্টিয়াস্থ শ্রম পরিদর্শক ফারজুন ইসলাম বাদী হয়ে অতি সম্প্রতি খুলনা শ্রম আদালতে মামলাটি দায়ের করেন।

এতে কুষ্টিয়া লিফ ফ্যাক্টরির প্লান্ট ম্যানেজার মুকিত আহমেদ চৌধুরী, কোম্পানির বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনিশা আব্রাহাম,হেড অব অপারেশন জর্জ লুইস মাসেডো ও কোম্পানির সচিব সৈয়দ আফজাল হোসেন মামলার বিবাদী। গত বুধবার শ্রম আদালতে এই মামলাটি দায়ের করা হয়। 

এর আগে লাগাতার শ্রমিক আন্দোলন-অসন্তোষ নিরসনে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমানের উদ্যোগে বিএটি কর্মকর্তাদের সাথে আন্দোলনরত শ্রমিকদের সমঝোতা বৈঠকে বসেন। কিন্তু সুরাহা ছাড়াই ওই বৈঠকের পরিসমাপ্তি ঘটে। ফলে শ্রমিক অসন্তোষ আরও দানা বেঁধে উঠে। 

এদিকে ২২ দফা দাবী আদায়ে অনড় কুষ্টিয়ায় বিএটিবি প্লান্টে কর্মরত মৌসুমি শ্রমিকরা সপ্তাহব্যাপী অফিস ঘেরাও, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করে করেছে। পরবর্তীতে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা লাগাতার কর্ম বিরতি চালিয়ে আসছে। ফলে লাগাতার শ্রমিক আন্দোলন ও কর্ম বিরতিতে বিএটিবির কুষ্টিয়াস্থ প্লান্ট কার্যত: অচল হয়ে পড়েছে।

আন্দোলনরত শ্রমিকরা জানান, শ্রম আইন অনুযায়ী নিয়োগপত্র প্রদান, কোম্পানির কাছ থেকে পাওনা লভ্যাংশ, প্রভিডেন্ট ফান্ড ও গ্রাচ্যুইটি, বেআইনিভাবে শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ ও চাকরীচ্যুত শ্রমিকদের পুর্নবহালসহ ২২ দফা বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত তাদের লাগাতার আন্দোলন চলমান থাকবে। 

তামাক,সিগারেট ও অন্যান্য নিকোটিন পণ্য তৈরি ও বিক্রয়কারি ব্রিটিশ বহুজাতিক কোম্পানি (বিএটি) কুষ্টিয়া জেলায় খাদ্য-শস্য উৎপাদন নিরুৎসাহিত করে ওই কোম্পানির পৃষ্ঠপোষকতা ও প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে হাজার হাজার হেক্টর আবাদি জমিতে চাষ করা হচ্ছে বিষাক্ত তামাক। কিন্তু মানবদেহের ক্ষতি ও স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে তামাক উৎপাদন-প্রক্রিয়াজাতকরণে হাড়ভাঙ্গা খাটুনির পরও ন্যায্য দাম-পারিশ্রমিক না পাওয়ায় শ্রমিকদের ঘুরছে না ভাগ্যের চাকা। 

কুষ্টিয়ার কল-কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের শ্রম পরিদর্শক মো. মুনছুর বিশ্বাস জানান, ২০২৪ সালে শ্রম মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক শ্রমিক অসন্তোষ দূরীকরণে বিএটিবিকে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও তা বাস্তবায়িত না হওয়ায় চরম শ্রমিক অসন্তোষের প্রেক্ষিতে আইনগত এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। 

এ বিষয়ে বিএটি বাংলাদেশের একজন মুখপাত্র বলেন, উল্লেখিত মামলার বিষয়ে আমরা এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক আইনি নোটিশ পাইনি।

কুষ্টিয়ার আমাদের গ্রিন লিফ থ্রেশিং প্লান্টে (GLTP) কিছু মৌসুমি শ্রমিক বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেছেন। বর্তমান অচলাবস্থার দ্রুত নিরসনে উত্থাপিত দাবিগুলোর বেশিরভাগই আমরা যথাযথ প্রক্রিয়ায় কার্যকর সমাধানে সক্রিয়ভাবে কাজ করে চলেছি। তবে আমাদের দৃষ্টিতে, অবশিষ্ট দাবিগুলো বাংলাদেশ শ্রম আইনের আওতাভুক্ত নয়, ফলে সেগুলো পূরণ করা সম্ভব নয়।

সঙ্কটের শান্তিপূর্ণ সমাধানে আমাদের প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে, আমরা সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের সঙ্গে উন্মুক্ত ও গঠনমূলক আলোচনায় অংশ নিয়েছি, সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সহায়তায় একাধিক বৈঠকে অংশগ্রহণ করেছি এবং আইনসঙ্গত কাঠামোর মধ্যে থেকে আরও ভালো সুযোগ-সুবিধাও প্রস্তাব করেছি।

একটি দায়িত্বশীল কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিএটি বাংলাদেশ শ্রম আইনসহ দেশের সকল নীতিমালা মেনে চলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

উল্লেখিত মামলার ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি পাওয়ার পর, আমরা বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করব এবং আইনি প্রয়োজনীয়তা অনুসারে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।

ইত্তেফাক/এএইচপি