গেল মাসে ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পেহেলগামে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর দক্ষিণ এশিয়ায় রাজনৈতিক উত্তেজনা তীব্র আকার নিয়েছে। হামলার ঘটনা নিয়ে দুই প্রতিবেশী দেশ ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে কাদা ছোড়াছোড়ি চলছে। সীমান্ত চৌকিতে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা। আর এই উত্তেজনার মধ্যে সম্প্রতি সময়ে জড়িয়েছে বাংলাদেশের নামও। যার প্রভাব পড়ার শঙ্কা ক্রিকেটেও। তাতে ভারতীয় দলের বাংলাদেশ সফর নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।
রাজনৈতিক এমন উত্তেজনার মধ্যে বিরাট-রোহিতদের শান্তদের বিপক্ষে খেলতে দল পাঠাতে চাইছে না ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। গতকাল এক প্রতিবেদনে এমনটি জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম টাইম অব ইন্ডিয়া। যদিও এই শঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছে বিসিবি। তারা মনে করেন সিরিজটি নির্ধারিত সময়েই মাঠে গড়াবে।
আইসিসির ফিউচার টুর প্রোগ্রাম (এফটিপি) অনুসারে আগামী আগস্টে তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টির সিরিজ খেলতে বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে ভারতীয় দলের। তবে ভারতীয় গণমাধ্যমে বিসিসিআই ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সফর বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। এর কারণ হিসেবে তারা উল্লেখ করেছে বিডিআর সদর দপ্তরে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে গঠিত স্বাধীন কমিশনের সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) আলম ফজলুর রহমানের আলোচিত ফেসবুক পোস্টের ব্যাপারটিকে।
গতকাল টাইমস অব ইন্ডিয়ার 'আন্তঃসীমান্ত উত্তেজনা উপমহাদেশের ক্রিকেট সূচি ব্যাহত করতে পারে' শিরোনামের খবরে বলা হয়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ঘনিষ্ঠ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ এল এম ফজলুর রহমান সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বার্তায় ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলো দখলের প্রস্তাব দিয়েছেন। চীনের সঙ্গে একটি যৌথ সামরিক ব্যবস্থা গঠনেরও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। এমন পরিস্থিতিতে ভারত ক্রিকেট দলের বাংলাদেশ সফর বয়কটের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না বলে টাইমস অব ইন্ডিয়াকে জানিয়েছে ঘটনাপ্রবাহ পর্যবেক্ষণকারী একটি সূত্র।
প্রতিবেদনে ওই সূত্রকে উদ্ধৃত করে লেখা হয়, 'সফরটি সূচির অংশ হলেও এখনো কিছুই চূড়ান্ত নয়। বর্তমান পরিস্থিতির কারণে ভারতের বাংলাদেশ সফর নাও হতে পারে। এমন সম্ভাবনাই বেশি।' তবে কিছু চূড়ান্ত নয় বলে উল্লেখ করা হলেও গত ১৫ এপ্রিল এই সফরের পূর্ণাঙ্গ সূচি প্রকাশ করে বিসিবি। খেলা হবে ঢাকা ও চট্টগ্রামে।
এ দিকে বিসিবি পরিচালক ও বোর্ডের ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান নাজমুল আবেদিন ফাহিম ভারতের বাংলাদেশ সফর নিয়ে শঙ্কার কিছু দেখছেন না বলে মন্তব্য করেছেন। দেশের এক গণমাধ্যমকে তিনি এ বিষয়ে বলেন, 'ভারতীয় দল সফরে নাও আসতে পারে, এই ধরনের কোনো আভাস বা ইঙ্গিত আমরা পাইনি। দুই দেশের বোর্ডের সম্পর্ক চমৎকার ও অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ। আমাদের বিশ্বাস, সফরটি ভালোভাবেই সম্পন্ন হবে 'স্বাভাবিকভাবে কোনো সিরিজের সূচি চূড়ান্ত করা হয় দুই দেশের বোর্ডের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমেই। সব প্রক্রিয়া ঠিকভাবেই চলছে বলেও জানিয়েছে তিনি। বলেন, 'সূচি ঘোষণা করা হয়েছে বেশ কিছু দিন আগেই এবং যতটুকু যোগাযোগ রাখা দরকার, সবকিছুই হচ্ছে।'
তবে এশিয়ার রাজনৈতিক এই টানাপড়েন থেমে নেই শুধু দ্বিপাক্ষিক সিরিজে। সেপ্টেম্বরে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে হওয়ার কথা ২০২৫ এশিয়া কাপের, তবে এখনো স্থান চূড়ান্ত হয়নি। পেহেলগামের হামলার পর ভারত সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে ক্রিকেট খেলার পরিবেশ নেই। ফলে এশিয়া কাপও পিছিয়ে যাওয়ার বা বাতিল হওয়ার সম্ভাবনায় রয়েছে। এর আগে ২০২৩ সালে হাইব্রিড মডেলে অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপে ভারত তাদের সব ম্যাচ খেলেছিল শ্রীলঙ্কায় এবং হয়েছিল চ্যাম্পিয়ন।
