হেফাজতের মহাসমাবেশ

‘আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন মানবো না’

আপডেট : ০৩ মে ২০২৫, ১৫:১৫

আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন মেনে নেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। 

শনিবার (৩ মে) দুপুরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

আজকের মহাসমাবেশের মূল দাবি চারটি। এর মধ্যে প্রধান দাবি হচ্ছে, অনতিবিলম্বে হেফাজত নেতাদের নামে থাকা সব মামলা প্রত্যাহার। সংগঠনটির হিসাব মতে, সারা দেশে হেফাজত নেতাদের নামে প্রায় ৩০০টি মামলা রয়েছে।

এ ছাড়া ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হত্যাকাণ্ড, ২০২১ সালের মার্চে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফর ঘিরে হত্যাকাণ্ড, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট হত্যাকাণ্ডের বিচার। এরপর যথাক্রমে নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশন বাতিল, সংবিধানের প্রস্তাবনায় আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস পুনর্বহাল করা, ফিলিস্তিন ও ভারতে মুসলিম গণহত্যা ও নিপীড়ন বন্ধের দাবিগুলো রয়েছে।

মহাসমাবেশে সভাপতিত্ব করছেন হেফাজতের আমির মাওলানা শাহ্ মুহিব্বুল্লাহ্ বাবুনগরী।

সমাবেশে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘আমার ভাই আবরার, আবু সাঈদের রক্তের ওপর পাড়া দিয়ে এই আওয়ামী লীগ বাংলাদেশ আসবে না। আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা হবে সবচেয়ে বড় সংস্কার। এখানে যদি, কিন্তু, আচ্ছা, দেখি নেই। আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করতেই হবে।'

নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশনের বিষয়টি উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টার উদ্দেশে এনসিপির এই নেতা বলেন, ‘অপ্রয়োজনীয় সংস্কারগুলোকে পাশ কাটিয়ে প্রয়োজনীয় যেসব সংস্কার রয়েছে, সেগুলোর মাধ্যমে যদি নারীদের অধিকার নিশ্চিত হয়, নারীদের সম্মান নিশ্চিত হয়, সেগুলো করুন।'

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, হাসিনার ফাঁসি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তরুণ প্রজন্ম আন্দোলন চালিয়ে যাবে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ মারা গেছে এবং দিল্লিতে তাদের জানাজা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন হাসনাত। তিনি বলেন, ‘হাসিনা ও আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের প্রতি বাংলাদেশের মানুষ ৫ আগস্ট রেড কার্ড দেখিয়ে দিয়েছে। সেদিনই আমরা সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছি।’

হাসনাত আরও বলেন, '( গণ-অভ্যুত্থানের) আট মাস পরে এসে অনেক রাজনৈতিক দল, রাজনীতিবিদ বারবার মনে করিয়ে দেয়, আওয়ামী লীগ নাকি রাজনৈতিক দল। দলটির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার নাকি তাঁদের নাই। অধ্যাপক ইউনূস কয়েক দিন আগে বলেছেন, আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিবে কি না, এ সিদ্ধান্ত আওয়ামী লীগের। অধ্যাপক ইউনূস ভুলে যাবেন না আমরা আপনাকে ক্ষমতায় বসিয়েছি।’

তিনি বলেন, 'আওয়ামী লীগ কোনো রাজনৈতিক দল নয়। স্বাধীনতার পর বাকশাল কায়েম করে শেখ মুজিবুর গণতন্ত্রকে হত্যা করেন। সে সময়ে জাসদের ৩০ হাজার নেতা–কর্মীকে হত্যা করেছিল এই দল। এই আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীদের সংগঠন। তাদের নিষিদ্ধ করার মধ্য দিয়ে আমরা সংস্কার দেখতে চাই।’

হেফাজতের নেতা–কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে যে হত্যাকাণ্ড হয়েছে, আজকে এখান থেকে আপনারা শহীদদের তালিকা জাতির সামনে প্রকাশ করুন।’

ইত্তেফাক/পিএস