ফিলিস্তিনি শিশুকে হত্যার দায়ে মার্কিন ব্যক্তির ৫৩ বছরের কারাদণ্ড

আপডেট : ০৩ মে ২০২৫, ১৬:১৭

ছয় বছর বয়সী ফিলিস্তিনি-আমেরিকান শিশু ওয়াদি আলফাইউমিকে ছুরিকাঘাতে হত্যার দায়ে একজন মার্কিন নাগরিককে ৫৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ঘৃণামূলক অপরাধের অভিযোগ এবং হত্যার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর এই সাজা ঘোষণা করা হলো।

শুক্রবার (২ মে) মার্কিন বিচারক অ্যামি বার্টানি-টমজাক ৭৩ বছর বয়সী ইলিনয় রাজ্যের জোসেফ জুবাকে এই সাজা দেন।

গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার মাত্র কয়েকদিন পরে ২০২৩ সালের ১৪ অক্টোবর জোসেফ তার বাড়ির দুই ভাড়াটিয়া হানান শাহীন এবং তার ছোট ছেলে ওয়াদি আলফাইউমির ওপর আক্রমণ করে।

ছুরিকাঘাতে নিহত ফিলিস্তিনি-আমেরিকান শিশু ওয়াদি আলফাইউমি। ছবি: সংগৃহীত

পুলিশ বলছে, যুদ্ধের কারণে রেগে গিয়ে জুবা ফিলিস্তিনি-আমেরিকান পরিবারটির বাসায় জোর করে ঢুকে পড়েন। তিনি হানান শাহীনকে শ্বাসরোধ করেন, তারপর একটি সামরিক ধাঁচের ছুরি বের করে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন।

এ সময় শিশুটির মা হানানকে ১০টিরও বেশি ছুরিকাঘাত করা হয়। কোনমতে প্রাণ বাঁচিয়ে তিনি সাহায্যের জন্য ৯১১ নম্বরে ফোন করার জন্য বাথরুমে পালিয়ে যান। একই সময় হত্যাকারী শিশু আলফাইউমিকে ২৬ বার ছুরিকাঘাত করে এবং সে প্রাণ হারায়।

আক্রমণের প্রায় দুই বছর আগে পরিবারটি শিকাগোর ঠিক বাইরে ইলিনয়ের প্লেইনভিলে জুবার বাড়িতে একজোড়া শোবার ঘর ভাড়া নিয়েছিল। কিন্তু ৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর জুবা তাকে তার বাসস্থান থেকে সরে যেতে বলে, কেননা তিনি মুসলিম ছিলেন। আক্রমণের সময়ও জোসেফকে বলতে শোনা যায়, 'একজন মুসলিম হিসেবে তোমাকে অবশ্যই মরতে হবে'। গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই ঘটনাটি ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ফিলিস্তিনি, আরব এবং মুসলিম-বিরোধী সহিংসতার চূড়ান্ত ঘটনার একটি।

ইত্তেফাক/এসকে