বঞ্চিত মোরেলগঞ্জের কৃষক, অন্য উপজেলার ১০ মে.টন ধান জব্দ

আপডেট : ২০ জুলাই ২০১৯, ২১:২৩

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ খাদ্য গুদামে বিক্রির জন্য পাশের চিতলমারী উপজেলা থেকে আনা দশ মেট্রিক টন বোরো ধান জব্দ করা হয়েছে। শনিবার সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান এ ধান জব্দ করে পুলিশের হেফাজতে দেন।

মোরেলগঞ্জের কৃষকদের অভিযোগ, সরকারী নিয়ম না মেনে মোরেলগঞ্জ খাদ্য গুদামের কর্মকর্তা স্থানীয় কৃষকদের বঞ্চিত করে পাশের উপজেলা থেকে অল্প দামে ধান কিনে গুদামজাত করেছেন। 

জানা গেছে, শুক্রবার মধ্য রাতে চারটি নসিমন গাড়িতে করে এসব ধান মোরেলগঞ্জ খাদ্য গুদামের সামনে নিয়ে আসা হয়। এ সময় স্থানীয় জনতার জিজ্ঞাসাবাদে গাড়ির চালকরা পালিয়ে যায়। নসিমন জব্দের খবর শুনে আরও তিনটি ধান বোঝাই নসিমন পালিয়ে যায়। 

বনগ্রাম গ্রামের কৃষক মিলন কুমার কুমার দাস, বিশখালীর গৌতম দাস, রাম লাল, দিলীপ দাস, বিমল কুমার দে ও কৃষাণী অঞ্জলী রানী জানান, বৃহস্পতিবার সকালে খাদ্য গুদামে ধান বিক্রি করতে এসে তিনদিন গুদামের সামনে অপেক্ষা করেছি। নানা অজুহাতে আমাদের ধান নেওয়া হয়নি। অথচ এ সময়সহ বন্ধের দিনে বিভিন্ন এলাকা থেকে নসিমনে নিয়ে আসা শত শত টন ধান গুদামজাত করা হয়েছে।  

স্থানীয় কৃষকরা জানান, ধান কেনা এ সিন্ডিকেট সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যোগসজসে পাশের উপজেলা থেকে কম দামে কিনে মোরেলগঞ্জ খাদ্য গুদামে বিক্রি করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
   
খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, কৃষক কার্ড দেখাতে না পারলে কেউ খাদ্য গুদামে ধান বিক্রিয় করতে পারবেনা। নিয়ম অনুযায়ী ধান ক্রয় চলছে। 

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. শহিদুল হক জানান, কার্ডসহ যারা ধান নিয়ে আসবে তাদের ধান কেন হবে। কারা কোথা থেকে নিয়ে এসেছে এটা কর্তৃপক্ষের দেখার বিষয় নয়।

আরও পড়ুন: এবার ভিক্ষুককে গণপিটুনি

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান বলেন, ওই ধানের মালিক পাওয়া যায়নি। জব্দ করা সব ধান থানা হেফাজতে নেওয়ার জন্য থানা অফিসার ইনচার্জকে বলা হয়েছে। 

বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য ডা. মোজাম্মেল হোসেন এক প্রতিক্রিয়ায় জানান, গুদাম কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ডিসি ফুডকে নির্দেশ দিয়েছেন।

ইত্তেফাক/অনি