চার বছরে গুরুদাসপুরের এক বিদ্যালয়ের ১০৬ ছাত্রীর বাল্যবিবাহ

আপডেট : ০৪ মে ২০২৫, ১২:৩৬

নাটোর গুরুদাসপুরের ধানুড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম থেকে দশম। এই তিনটি শ্রেণির ছাত্রী ঝড়ে পড়েছে আশঙ্কাজনক হারে। মূলত বাল্যবিয়ের শিকার হয়ে এসব ছাত্রীরা এখন সংসার নিয়ে ব্যস্ত। গত চার বছরে একটি বিদ্যালয়ের অন্তত ১০৬ ছাত্রী বাল্যবিয়ের শিকার হয়েছে। সবশেষ চলতি বছরের মাধ্যমিক পরীক্ষায় (এসএসসি) অনুপস্থিত রয়েছে ১০ ছাত্রী। ফলে শঙ্কা তৈরি হয়েছে ছাত্রী সংকটের।

বিদ্যালয়টির পরিসংখ্যান বলছে, ২০২২ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ২০৩ জন ছাত্রী ষষ্ঠ শ্রেণি ভর্তি হয়। এসব ছাত্রীদের মধ্যে অষ্টম শ্রেণিতে রেজিষ্ট্রেশনের পরই ৮০ জন ছাত্রী বাল্যবিয়ে কারণে ঝরে পড়ে। এছাড়া ২০২২ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ১৬ জন এসএসসি পরক্ষার্থী বাল্য বিয়ের শিকার হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৫ সালে ২৫ ছাত্রী  পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণ করলেও ১০ জন শিক্ষার্থী চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করেনি। অনুপস্থিত এসব ছাত্রীরা বাল্যবিয়ের শিকার হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ভাষ্যমতে, উপজেলার চাপিলা ইউনিয়নের ধানুড়া ছাড়াও চন্দ্রপুর, শ্যামপুর, পুঠিমারী ও ওয়াপদাবাজার গ্রামের মেয়েরা বিদ্যালয়টিতে লেখাপড়া করে। যাতাযাতের সুবিধার্থে ২০১৭ সাল থেকে বিদ্যালয়ের খরচে নিজস্ব পরিবহন সেবাও চালু করা হয়। ছাত্রী উপস্থিতি নিশ্চিত করতে ২০০০ সাল থেকে ‘মিড ডে মিল’ চালু করা হয়। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সপ্তাহে ১ কেজি চাল ও ২০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছিল। অবশিষ্ট খরচ শিক্ষকদের অনুদানের টাকায় মেটানো হতো। কিন্তু নানা কারণে ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাস থেকে দুপুরের খাবার বন্ধ রয়েছে।

চার বছারে ১০৬ ছাত্রীর বাল্যবিয়ের তথ্যটি নিশ্চিত করে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মো. আলমগীর ইত্তেফাককে বলেন, ধানুড়া বালিকা বিদ্যালয়টি অজপাড়া গ্রামে অবস্থিত। বিদ্যালয়ের আশপাশের গ্রামের ছাত্রীদের অভিভাবকরা তুলনামূলক অভাবী এবং অজ্ঞ। ভালো কোনো পাত্র পেলেই তাদের অল্পবয়সী মেয়েদের গোপনে বিয়ে দেন। নানা পদক্ষেপ নিয়েও বাল্যবিয়ে বন্ধ করতে পারছেন না তারা।

তিনি আর বলেন, বাল্যবিয়ে রোধে এলাকাভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগ, অভিভাবকদের নিয়ে সচেতনতামূলক সমাবেশ করেও কোন কাজ হচ্ছে না। এ কারণে শিক্ষার্থী সংকটের শঙ্কায় ভুগছে বিদ্যালয়টি।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটিরর সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ ইত্তেফাককে জানান, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের বাল্যবিয়ের বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। বাল্যবিয়ে রোধে তিনি ইতিমধ্যে ব্যবস্থা নিয়েছেন। তাছাড়া ‘মিড ডে মিল’ চালু রাখার উদ্যোগটি বিবেচনায় আনা হবে।

গাইনী ও স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সারমিন শাথি ইত্তেফাককে বলেন, বাল্যবিয়ের প্রধান কুফল হচ্ছে অল্পবয়সে মা হওয়া। অল্পবয়সে মা হতে গিয়ে জরায়ু ছিঁড়ে যাওয়াসহ জরায়ুতে ক্যান্সার হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাছাড়া ঝুঁকি নিয়ে মা হওয়ার পর অসচেতনায় অপুষ্টিতে ভুগে মা ও শিশু।


#মো. রাশিদুল ইসলাম ০১৭৫০-৯৫২৮৫৭৫   ৩.৫.২০২৫

ইত্তেফাক/কেএইচ