শান্ত–মারিয়াম ইউনিভার্সিটিতে ৪৪৫ কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ

আপডেট : ১৪ মে ২০২৫, ১৮:৩৮

প্রায় সাড়ে ৪০০ কোটি টাকা আর্থিক অনিয়মের অভিযোগসহ বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শান্ত–মারিয়াম ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজসহ সংশ্লিষ্টদের দুর্নীতি খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মঙ্গলবার (১৩ মে) বিকেলে দুদকের নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা জানিয়েছেন সংস্থাটির মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন। তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে দুদক এসব অভিযোগ অনুসন্ধান করছে।

আক্তার হোসেন বলেন, শান্ত–মারিয়াম ইউনিভার্সিটির বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় বিধি লঙ্ঘন করে তহবিলের ৩৪৩ কোটি ৬০ লাখ ৩০ হাজার ৪৯৯ টাকা শান্ত–মারিয়ম ফাউন্ডেশনে স্থানান্তর করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ১০২ কোটি টাকা সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে তারা। এসব আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ আমলে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক।

একই দিনে নর্দান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান আবু ইউসুফ মো. আব্দুল্লাহ ও তার পরিবারের সদস্যদের দুর্নীতি অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক।

দুদক জানায়, তিনি ও তার পরিবারের অন্য সদস্যরা দুর্নীতি ও প্রতারণার মাধ্যমে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করছে সংস্থাটি।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনিয়ম রোধে দুদক বিশেষ কোনো ব্যবস্থা বা টাস্কফোর্স গঠন করছে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে দুদক মহাপরিচালক বলেন, ‘শুধু অভিযোগের ভিত্তিতে দুদক এসব কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। বিশেষ ধরনের কোনো কিছু করেনি। যদি এমন আরও অভিযযোগ থাকে, সেসব খতিয়ে দেখা হবে।’

এ বিষয়ে শান্ত-মারিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়ের বক্তব্য

শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজির চাকরিচ্যুত কর্মকর্তাদের সংঘবদ্ধ গ্রুপে নিজেদের রক্ষা করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ও ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার অপচেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছে কর্তৃপক্ষ। 

‘আর্থিক অনিয়ম ও রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান’- এমন সংবাদের প্রতিবাদে মঙ্গলবার (১৩ মে) সন্ধ্যায় এক চিঠিতে এ অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিষ্ট্রার ড. পাড় মশিয়ূর রহমান স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, আজ মঙ্গলবার একাধিক টিভি চ্যানেল ও প্রিন্ট মিডিয়ায়, ‘সাড়ে ৩০০ কোটি টাকার অনিয়ম ও ১০২ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগে শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটির বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে নেমেছে দুদক’ শীর্ষক সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে। প্রচারিত সংবাদটি জনমনে বিভ্রান্তি সুষ্টি ও বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে বলে উক্ত সংবাদ পরিবেশনের বিরুদ্ধে আমরা তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

আরও বলা হয়, অর্থ আত্মসাতের মামলায় অভিযুক্ত এ বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব শাখার চারজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বর্তমানে জেল হাজতে আছে। ওয়ারেন্টভুক্ত তিনজন আসামি রয়েছে পলাতক। হিসাব বিভাগের আরও তিনজনকে অতি সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চাকুরিচ্যুত করা হয়েছে। 
‘লক্ষণীয়, অভিযুক্ত আসামি ও চাকরিচ্যুত সকলেই হিসাব শাখার কর্মকর্তা। কর্তৃপক্ষ ধারণা করে যে, জেল হাজতে থাকা আসামি, ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি এবং চাকরিচ্যুত কর্মকর্তাদের সংঘবদ্ধ গ্রুপে নিজেদের রক্ষা করতে ও প্রতিশোধ নিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ও ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার অপচেষ্টায় লিপ্ত।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, শান্ত-মারিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল প্রকার লেনদেন প্রতি বছর সরকারি অডিট ফার্ম দ্বারা নিরীক্ষা করা হয়ে থাকে এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিয়মিত সরকারি রাজস্ব দিয়ে থাকে। এমতাবস্থায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক-কর্মকর্তাসহ সকলকে উল্লেখিত আর্থিক অনিয়ম সংক্রান্ত সংবাদে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য অনুরোধ করা হলো।

ইত্তেফাক/এনএ