ই-ক্যাবের নির্বাচন স্থগিত করার কোনো যৌক্তিকতা নেই: জান্নাতুল হক

আপডেট : ১৪ মে ২০২৫, ১৮:০৬

দেশের ই-কমার্স খাতের সংগঠন ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) ২০২৫-২৭ মেয়াদের কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন হবে ৩১ মে। কিন্তু সব প্রস্তুতি যখন শেষের পথে তখনই আজ ১৪ মে বাণিজ্য মন্ত্রাণালয়ের একটি চিঠি দিয়ে নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। এরই মধ্যে নির্বাচনকে সামনে রেখে ১১ সদস্যের প্যানেল ঘোষণা করেছে ‘টিম ইউনাইটেড’। আজ বুধবার নির্বাচন স্থগিতের ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানান টিম ইউনাইটেডের পক্ষ থেকে প্যানেল লিডার জান্নাতুল হক শাপলা।

তিনি বলেন, যেহেতু কোনো কারণ ছাড়াই ইতোপূর্বে তফসিল ঘোষণা পর নির্বাচনের তারিখ পিছিয়ে ৩ মার্চ করা হয়েছে, সেহেতু দ্বিতীয়বার নির্বাচন স্থগিত করা যুক্তিসংগত নয়। তফসিল ঘোষণার দুই মাস ১১ দিন অতিবাহিত হয়েছে প্রার্থী এবং ভোটাররা নির্বাচনে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং কোনো ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার আভাস যায়নি। সেহেতু নির্বাচন স্থগিত করার যৌক্তিকতা নেই বলে তিনি দাবি করেন।

জান্নাতুল হক বলেন, মাত্র কয়েকজন সদস্য হজে রয়েছেন যাদের সংখ্যা ২-৩% হবে। নির্বাচনে যেখানে ৭৫-৮০% ভোটার অংশগ্রহণ করবে সেখানে ২% ভোটারের জন্য নির্বাচন পেছানোর সিদ্ধান্ত বৈষম্যমূলক। ই-ক্যাবের মোট সদস্যক্রম ২৯৪০ হলেও ই-ক্যাবের গঠনতন্ত্র অনুসারে বৈধ সদস্য সংখ্যা ৬শর কম। সেহেতু ভোটার কম হওয়ার অজুহাত গঠনতন্ত্র পরিপন্থী। যদি এই কারণে নির্বাচন স্থগিত করা হয় তাহলে সিদ্ধান্তও গঠনতন্ত্র বিরোধী হবে।

তিনি আরও বলেন, রেকর্ড সংখ্যক সদস্য নির্বাচনে ফরম নিয়েছেন এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক জমা দিয়েছেন। যারা ভোটারের হিসাবে প্রায় ৭%। এই পরিমাণ প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়ার পরও নির্বাচন স্থগিত কোনো কারণ থাকতে পারে না। সদস্যরা এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে না।

যেহেতু প্রার্থীদের কাছ থেকে ফি গ্রহণ করা হয়েছে, সেহেতু তাদের মতামত ব্যতীত নির্বাচন স্থগিতের সিদ্ধান্ত কোনো উদ্দেশ্যমূলক হতে পারে বলে সাধারণ সদস্যরা মনে করছে। এমনকি কোনো প্রার্থী বা প্রার্থীদের সম্মিলিত অংশ নির্বাচনে পরাজয়ের আশংকায় তাদের অনুগত সদস্যদের দ্বারা নির্বাচন স্থগিতের আবেদন করে থাকলে সেটা যথাযথা যাচাই-বাছাই ও বিচার-বিবেচনা ব্যতীত, অন্য সদস্যদের মতামত ও শুনানি ব্যতীত এবং প্রার্থীদের পরামর্শ ব্যতীত একপেশে সিদ্ধান্ত নেয়ার মাধ্যমে নির্বাচন বোর্ড সংখ্যাগরিষ্ঠদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণের নজির সৃষ্টি করেছে বলে মনে করেন জান্নাতুল হক শাপলা। অনতিবিলম্বে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নির্বাচনে ফিরে আসার জন্য নির্বাচন বোর্ডের কাছে তিনি জোর দাবি জানান।

ইত্তেফাক/আরআর