দক্ষিণ ভারতের প্রযুক্তি নগরীখ্যাত বেঙ্গালুরুতে টানা ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে শহরের অনেক অংশ বন্যায় ভেসে গিয়েছে। সোমবারের (১৯ মে) বৃষ্টিতে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয় এবং এর ফলে অন্তত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে একজন ১২ বছর বয়সী শিশু এবং একজন মহিলা সফটওয়্যার কর্মীও রয়েছেন।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার শহরে ১০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা ২০১১ সালের পর সর্বোচ্চ। আবহাওয়া কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বেঙ্গালুরুতে এমন বৃষ্টিপাত খুবই বিরল ঘটনা। শহরজুড়ে বিভিন্ন রাস্তায় হাঁটু পানি জমে গিয়ে অনেক গাড়ি পানিতে আটকে পড়েছে।
পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে, শহরের বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান তাদের কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ করতে বলেছে। কর্ণাটক রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শহরের ২১০টি বন্যাপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে এবং এসব এলাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রশাসন সার্বক্ষণিক কাজ করছে। রাজ্যের উপ-মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার জানিয়েছেন, ‘জনগণকে চিন্তিত হওয়ার দরকার নেই।’ তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। তারা বলছেন, প্রতি বছর বৃষ্টি হলেই শহর তলিয়ে যায়, অথচ কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয় না।
শহরের নাগরিকদের অভিযোগ, বেঙ্গালুরুর অবকাঠামো বর্ষা মৌসুমে সবচেয়ে দুর্বল হয়ে পড়ে। তারা বলছেন, নতুন উন্নয়ন প্রকল্পের নামে হ্রদ, খাল ও জলাভূমি ভরাট করা হচ্ছে, যার ফলে পানি বের হওয়ার রাস্তা থাকছে না। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হচ্ছে বন্যা পরিস্থিতি।
বিরোধী দল বিজেপি এই পরিস্থিতির জন্য রাজ্য সরকারকে দায়ী করে ১০০০ কোটি রুপি জরুরি ত্রাণের দাবি করেছে। তবে সরকার বলছে, এসব সমস্যা বহু বছরের পুরনো এবং সমাধানের চেষ্টা চলছে। তথ্যসূত্র: বিবিসি

হিমাচলে নজিরবিহীন বন্যা-ভূমিধসে নিহত বেড়ে ৫৯