দুদকের তলবে সাড়া দেননি স্বাস্থ্য উপদেষ্টার ব্যক্তিগত ২ কর্মকর্তা

আপডেট : ২০ মে ২০২৫, ১৯:৩৮

ক্ষমতার অপব্যবহার করে তদবির বাণিজ্য, চাঁদাবাজি, টেন্ডার বাণিজ্যসহ নানাবিধ অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে নামে-বেনামে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের দুই ব্যক্তিগত কর্মকর্তাকে (পিও) তলব করেছিল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মঙ্গলবার (২০ মে) উপস্থিত হতে চিঠি দেওয়া হলেও সাড়া দেননি তারা।

যাদের তলব করা হয় তারা হলেন- স্বাস্থ্য উপদেষ্টার ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (পিও) ছাত্র প্রতিনিধি তুহিন ফারাবি এবং আরেক পিও মাহমুদুল হাসান।

দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মো.আক্তার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আজ অভিযুক্ত দুই ব্যক্তিকে তলব করা হলেও উপস্থিত হননি তারা। এমনকি কোনো আবেদনও করেননি তারা সময় বৃদ্ধির জন্য। দুদকের পক্ষ থেকে তাদেরকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। তবে তারা যদি এ সুযোগ না নেন এটা তাদের বিষয়।

দুদক মহাপরিচালক বলেন, জিজ্ঞাসাবাদ এড়ানোর কৌশল কাজে আসবে না। তাদের অনুপস্থিতির কারণে অনুসন্ধান কাজ থেমে থাকবে না আমাদের। অনুসন্ধান নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ হলে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন জমা দিবে দুদকের টিম। তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবেদনের আলোকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দুদককে তারা এড়িয়ে চলছেন কি না এবং বিদেশ যাত্রায় তাদের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে কি না এ বিষয়ে জানতে চাইলে মো. আক্তার হোসেন বলেন, অনুসন্ধানের স্বার্থে যা যা প্রয়োজন, সেটি যদি অনুসন্ধান দলের কাছে প্রতীয়মান হয় যে, কোনো অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি পালিয়ে যেতে পারেন- তাহলে তাদের জন্য কী পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে সে বিষয়টি জানেন অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তারা। নিশ্চয় সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন তারা।

কোনো উপদেষ্টাকে তলব করা হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই এখতিয়ার একান্তভাবে অনুসন্ধান দলের। যাদের অভিযোগ সংশ্লিষ্ট মনে করবেন তারা অথবা অভিযোগ প্রমাণে সহায়ক মনে করবেন, তাদের যে কাউকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য, বক্তব্য নেওয়ার জন্য অনুরোধ করতে পারেন।

দুদকের পরবর্তী করণীয় কী জানতে চাইলে দুদক মহাপরিচালক বলেন, তাদের আরও একবার সুযোগ দিতে পারে আমাদের অনুসন্ধান দল। সেখানে নোটিশে লেখা থাকে যদি এই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপনার কোনো বক্তব্য না পাওয়া যায় তাহলে ধরে নেওয়া হবে এ বিষয়ে আপনার কোনো বক্তব্য নেই। এ বিষয়গুলো উল্লেখ থাকে আমাদের চিঠিতে। এই অনুপস্থিতির কারণে অথবা জিজ্ঞাসাবাদ এড়ানোর কৌশল কাজে আসবে না তার।

সরকারের দুই প্রতিনিধি আসলেন না- এটা খারাপ বার্তা দিলো কি না এ বিষয়ে তিনি বলেন, আসলে বিষয়টা তেমন নয়। তাদের অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করবো আমরা। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে আমাদের কাছে এবং অনুসন্ধান চলছে, তাদের সেই হিসেবে বিবেচনা করবো আমরা। যদি এখানে তারা এড়িয়ে যান, কেউ যদি সুযোগ না নেন- অনুসন্ধান সেই কারণে থেমে থাকবে না।

দুর্নীতির অভিযোগে এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি পাওয়া এ বি এম গাজী সালাউদ্দিনকে দুদক আগামী ২১ মে তলব করেছে। এছাড়া, ২২ মে তলব করা হয়েছে যুব ও ক্রীড়া এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার সাবেক এপিএস মো. মোয়াজ্জেমকে।

ইত্তেফাক/এনটিএম/এমএএস