কোরবানির পশু কেনার আগে অনেকের মনেই অনেক ধরণের প্রশ্ন থাকে। কোন পশু কেনা যাবে, কোন পশু কোরবানির জন্য সহিহ, এমন নানা বিষয় একজন সামর্থ্যবান মুমিনের মাথায় ঘুরতে থাকে। নানা প্রশ্নের মাঝে একটি হলো, উপহার পাওয়া গবাদি পশু দিয়ে কোরবানি হবে কি না।
কোরবানির জন্য কোনো পশু কিনলে যেমন তা দিয়ে কোরবানি শুদ্ধ হয়, উপহারের মাধ্যমে কোনো কোরবানির উপযুক্ত পশুর মালিক হলে তা দিয়েও কোরবানি শুদ্ধ হবে।
হানাফি ফিকহের প্রসিদ্ধ কিতাব বাদায়িউস সানায়ে-এ বলা হয়েছে, যদি কেউ কাউকে ছাগল উপহার দেয় এবং সে ওই ছাগলটি দিয়ে কোরবানি করে, তাহলে এটা তার জন্য বৈধ হবে। কেননা উপহার পাওয়ার এবং হাতে আসার মাধ্যমে সে ওই পশুটির মালিক হয়ে গেছে যেমন কেউ ক্রয় করলে মালিক হয়ে যায়। (বাদায়িউস সানায়ে ৬/৩১৯)
এদিকে, কোন কোন পশু দিয়ে কোরবানি হবে, তার বিস্তারিত বিধান রয়েছে ইসলামে। শরীয়ত মোতাবেক তিন ধরনের চতুষ্পদ জন্তু দিয়ে কোরবানি করা যাবে। তা হলো ছাগল, ভেড়া বা দুম্বা প্রজাতি, গরু বা মহিষ এবং উট।
কোরবানি বিশুদ্ধ হওয়ার জন্য পশু নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হতে হবে। কোরবানির পশু সব ধরনের শারীরিক ত্রুটিমুক্ত হওয়া জরুরি। গুণগত দিক থেকে উত্তম হলো, পশুটি দেখতে সুন্দর, নিখুঁত বা দোষত্রুটি মুক্ত ও হৃষ্টপুষ্ট। যে পশু দেখলে পছন্দ হয়। আবু সাঈদ খুদরি (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) শিংবিশিষ্ট ও মোটাতাজা একটি মেষ কোরবানি করেছেন। এর চেহারা, পা ও চোখ ছিল মিটমিটে কালো। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৩১২৮)
কো০.রবানির জন্য পশুর নির্দষ্ট বয়সও রয়েছে। যেমন উটের বয়স পাঁচ বছর হতে হবে। গরু ও মহিষের বয়স দুই বছর হতে হবে। ছাগল ও ভেড়ার বয়স এক বছর হতে হবে।
