দারিদ্রের কাছে হার মানলেন তারা...

আপডেট : ২৬ মে ২০২৫, ১৮:২৪

কিস্তিতে একটি ইজিবাইক কিনে তার অল্প আয় দিয়ে তীব্র অভাব নিয়েই চলছিল জরিনা ও আল আমিনের সংসার। শেষমেশ ভালোবাসা ও বিষাদের এক মর্মান্তিক পরিণতিতে শেষ হলো তাদের জীবনের সংসার। 

এখানেই শেষ নয়, তাদের সংসারে রয়েছে একটি ছেলে ও একটি মেয়ে শিশু। এখন তারা শুধু এতিমই নয়, বঞ্চিতও হলো মা-বাবার স্নেহ, আদর আর ভালবাসা থেকে। তাদের দেখার জন্য আর রইলো না কেউ। অনিশ্চিত ভবিষ্যতে দিকে নিমজ্জিত এই অবুঝ দুইটি শিশুর আগামী দিনের পথচলা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার লালপুর এলাকার আল আমিন (২৫) ও তার স্ত্রী জরিনা বেগম (২০) রোববার রাতে একসঙ্গে ‘কেরির ট্যাবলেট’ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। রাত ১০টার দিকে পরিবারের লোকজন দুজনকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরিনা জরুরি বিভাগেই মারা যান। কিছুটা সময় লড়লেও রাত ১টার দিকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন আল আমিনও। উপজেলার লালপুর ইউনিয়নের কুড়েরপাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। 

নিহত আল আমিন কুড়েরপাড় এলাকার নান্নু মিয়ার ছেলে ও জরিনা একই ইউনিয়নের নোয়াপাড়ার ইদ্রিস মিয়ার মেয়ে। নিহত আল আমিন পেশায় ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা চালক ছিলেন।

জরিনার ভাই আনোয়ার হোসেন জানান, অভাব-অনটন ও সংসারের টানা পোড়েন তাদের প্রতিনিয়ত পুড়িয়ে দিচ্ছিল। কিস্তিতে কেনা ইজি বাইকটি কয়েক দিন আগে আল আমিন বিক্রি করে দেন। এরপর শুরু হয় দাম্পত্য কলহ। এই দুঃখ, রাগ ও অপ্রাপ্তির হতাশা থেকেই তারা এক সাথে আত্মহননের পথ বেছে নেন।

এব্যাপারে আশুগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন বলেন, “অভাব-অনটন ও মানসিক কষ্ট থেকেই এই আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তাদের লাশ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।”

প্রতিবেশীরা বলছেন, এমন মৃত্যু দেখতে হবে ভাবতেই পারছেন না তারা। জীবনযুদ্ধে হেরে গেছেন এক দম্পতি, রেখে গেছেন শোক, অভাব আর দুটি অনাথ শিশু।

ইত্তেফাক/এএইচপি