টিকিট বিক্রি প্রতিষ্ঠানের দায়ভার নিজের ঘাড়ে নিলো বাফুফে 

আপডেট : ২৭ মে ২০২৫, ১৬:৪১

আগামী ১০ জুন এশিয়ান কাপ ফুটবল গ্রুপ পর্বের বাছাইয়ে আগামী ১০ জুন বাংলাদেশ-সিঙ্গাপুর ম্যাচ ঘিরে অনলাইনে টিকিট বিক্রি করতে গিয়ে বাফুফে এখন লেজেগোবরে অবস্থায় পড়েছে। টিকিফাই নামের একটি অনলাইন প্রতিষ্ঠানকে টিকিট বিক্রি করতে দিয়ে বাফুফের গলায় কাঁটা আটকে গেছে। এখন ছাড়তেও পারে না, গিলতেও পারে না। বাধ্য হয়ে টিকিফাইয়ের দোষ নিজেদের ঘাড়ে তুলে নিয়েছে বাফুফে। 

বাংলাদেশ-সিঙ্গাপুর ম্যাচ ঘিরে বাফুফে স্মার্ট হওয়ার পরিকল্পনা করছে। আধুনিক হওয়ার পরিকল্পনা করেছে। আর এসব হতে গিয়ে সবচেয়ে বড় বিষয় যেটি ছিল সেটি টিকিট বিক্রি করা। দর্শকের হাতে টিকিট তুলে দেওয়া। গুঞ্জন রয়েছে টিকিট বিক্রি প্রক্রিয়া প্রবর্তন করতে গিয়ে বাফুফের ভেতরেই সিন্ডিকেট কাজ করছে বলে সাধারণ দর্শক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলছেন। যারা টিকিট পাচ্ছেন না, তারা সন্দেহের তীর বাফুফের একাধিক কর্মকর্তার দিকে ছুড়ছেন। প্রশ্ন তুলছেন কেন বাফুফে হঠাৎ করে স্মার্ট হতে যাচ্ছে। 

এ সব নিয়ে গতকাল কথা বলেছেন বাফুফের সভাপতি তাবিথ আউয়াল। তিনি গিয়েছিলেন ক্রীড়া সাংবাদিকদের ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে। পল্টন ময়দানে ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন অনুষ্ঠানের পর টিকিট বিক্রি অনলাইন প্রতিষ্ঠানের দায়ভার নিজেদের ঘাড়ে তুলে নিয়েছে বাফুফে। তাবিথ বলেন, 'বাফুফে সব সময় ইনোভেটিভ কাজ করে থাকে। প্রথমবার ভুল-ত্রুটি হতে পারে, এটা স্বীকার করে নিয়েছি। দুটি আইপি অ্যাড্রেস থেকে সাইবার আক্রমণ হয়েছে। এজন্য সার্ভার ডাউন ছিল। টিকিট সংগ্রহ পর্যায় থেকে স্টেডিয়ামে প্রবেশ পর্যন্ত আমরা নজরদারি রাখব। আমরা আশাবাদী, আজ (গতকাল) আবার রাত ১০টা থেকে সাইট ও প্ল্যাটফরম অন হবে, সীমিত পরিসর হলেও।' 

এ সব কথাগুলো মানতে চাইছেন না দর্শক। কারণ বাফুফে অনলাইনে টিকিট বিক্রি করতে গিয়ে বাফুফে সাধারণ দর্শকের কথা ভুলে গেছে। টিকিট কিনতে এত জটিলতা আগে কখনো হয়নি। সাধারণ দর্শক বলছে, যার হাতে টাচ ফোন নেই সে কীভাবে টিকিট কিনবে। যার ইমেইল আইডি নেই, সে কীভাবে টিকিট কিনবে। তারা টিকিট না পেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে, বিভিন্ন পোস্টে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। অনলাইনে গেলেই দেখা যায় টিকিট সাইট বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। 
টিকিট সবাই পাবে না। 

এটা নিয়ে তাবিথ বললেন, 'স্টেডিয়াম গ্যালারি মিলে ১৮ হাজার। এর বাইরে হাজার দুয়েক হতে পারে। দুর্ভাগ্যজনক হলেও বাস্তবতা হচ্ছে অনেক সমর্থককে সীমিত আসনের জন্য স্টেডিয়ামের বাইরে থাকতে হবে। তাদের জন্য আমরা বাইরে ব্যবস্থা করবো। বাফুফের পক্ষ থেকে আটটি বিভাগীয় শহরে ফ্যান জোন করা হচ্ছে। অনেকে ব্যক্তি উদ্যোগেও করছে।'

ইত্তেফাক/জেডএইচ