মানিকগঞ্জের সিংগাইর থেকে ইটভাটা মালিকের কাছ থেকে ঘুষ আদায় তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় সাময়িক বহিষ্কার হয়েছেন মানিকগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক আব্দুর রাজ্জাক। বর্তমানে তিনি রাঙামাটি পরিবেশ অধিদপ্তর কার্যালয়ে কর্মরত থাকলেও ঐ সময়ে তিনি মানিকগঞ্জে কর্মরত ছিলেন।
পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. কামরুজ্জামান এনডিসি স্বাক্ষরিত সাময়িক বরখাস্ত আদেশ সম্প্রতি সাংবাদিকদের হাতে এসেছে। অভিযোগের মাত্রা ও প্রকৃতি বিবেচনায় পরিদর্শক আব্দুর রাজ্জাককে সরকারি চাকরি আইন ২০১৮ এর ৩৯ ধারা এবং সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপীল) বিধিমালা ২০১৮ এর বিধি ১২ অনুযায়ী সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।
তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করে পাওয়া প্রাপ্ত নথিপত্র ঘেঁটে দেখা গেছে, মানিকগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তর কার্যালয়ে চাকরিরত সময়ে মানিকগঞ্জের সিংগাইরের বলধারা জনৈক মালিক শহিদুল ইসলাম (শাহজাহান) কাছ থেকে আব্দুর রাজ্জাকের ইটভাটা থেকে ঘুষ নেওয়ায় কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ড ফাঁস হয়। যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়।
পরিবেশ অধিদপ্তরের সাময়িক বরখাস্ত আদেশে উল্লেখ রয়েছে, যেহেতু,তিনি বলধারা ইউনিয়নের অবস্থিত ‘মেসার্স রাকমান ব্রিকস’ নামক ইট ভাটার অনুকূলে পরিবেশগত ছাড়পত্র নবায়ন প্রদানের নিমিত্ত প্রদত্ত পরিদর্শন প্রতিবেদন এবং উক্ত ভাটাসহ আরও দুটি ভাটার বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তিতে করা সমন্বিত পরিদর্শন প্রতিবেদনে ‘মেসার্স রাকমান ব্রিকস’ নামক ইট ভাটা সম্পর্কে পরস্পর বিরোধী মতামত প্রদান করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিভ্রান্ত করেছেন এবং প্রকারান্তরে অধিদপ্তরের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছেন, একজন সরকারি কর্মচারী হিসেবে আইন কানুন ও বিধি-বিধানের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। যেহেতু, পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রাথমিক তদন্তে তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগসমুহের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গিয়েছে।
এছাড়া একজন ইটভাটা মালিক তার বিরুদ্ধে তিনি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশাসনিক তদন্তে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় তাকে গত মাসের ২০ এপ্রিল সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। প্রশাসনিক তদন্তে শেষে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু করা হয়েছে।
মানিকগঞ্জ জেলা কার্যালয়ে এক বছর আট মাস দায়িত্ব পালন করেন। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের শেষ দিকে তার বিরুদ্ধে আসা এসব অনিয়মের বিষয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে ফেব্রুয়ারি মাসের ১৩ তারিখে কর্তৃপক্ষ তাকে রাঙামাটি বদলি করেন। সেখানে দায়িত্বরত অবস্থায় তিনি সাময়িক বহিষ্কার হয়েছেন।
সাময়িক বহিষ্কারের বিষয়ে জানতে চাইলে পরিদর্শক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, প্রাথমিক তদন্তে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। ফাইনালি তো কিছু হয়নি। এ বিষয়ে আমি আইনানুগভাবে লড়াই করবো।
রাঙামাটি পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মুমিনুল ইসলাম বলেন, পরিদর্শক আব্দুর রাজ্জাক ফেব্রুয়ারি মাসে রাঙামাটি কার্যালয়ে যোগদান করেন। আগে কোথায় কি অনিয়ম হয়েছে বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে গতমাস থেকে সাময়িক বহিষ্কার হওয়ায় অফিসের সকল কার্যক্রম থেকে আব্দুর রাজ্জাক বিরত রয়েছেন।
