ঈদযাত্রায় কালোবাজারি ঠেকাতে একযোগে অভিযান, ২ রেলস্টেশনে মিললো অনিয়ম

আপডেট : ২৮ মে ২০২৫, ১৮:০৬

ঈদুল আজহা উপলক্ষে কালোবাজারে ট্রেনের টিকিট বিক্রি, যাত্রী হয়রানিসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে রাজধানীর কমলাপুরসহ আটটি রেলস্টেশনে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ অভিযানে ময়মনসিংহ রেলস্টেশনে কালোবাজারির টিকিট জব্দ করা হয়েছে। তাছাড়া অব্যবস্থাপনার কারণে রংপুর রেলস্টেশনের দায়িত্বশীলদের সতর্ক করা হয়।

বুধবার (২৮ মে) বেলা সাড়ে ১১টা থেকে একযোগে এসব স্টেশনে অভিযান চালানো হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম।

অভিযান চালানো বাকি স্টেশন হলো- কমলাপুর রেলস্টেশনের প্রধান কার্যালয়, চট্টগ্রাম রেলস্টেশন, রংপুর রেলস্টেশন, রাজশাহী রেল স্টেশন, ময়মনসিংহ রেলস্টেশন, জামালপুর রেলস্টেশন, সিলেট রেলস্টেশন ও দিনাজপুর রেলস্টেশন।

দুদক কর্মকর্তা আকতারুল বলেন, সম্প্রতি রেলের টিকিট কালোবাজারি নিয়ে দুদকের প্রধান কার্যালয়সহ বিভিন্ন জেলায় দুদকের সমন্বিত কার্যালয়ে বেশ কিছু অভিযোগ এসেছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে দুদকের বিভিন্ন কার্যালয় থেকে আটটি অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আজ অভিযান চালানো হয়।

তিনি বলেন, টিকিট কালোবাজারির বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছে কমিশন। ঈদের আগে ও পরে দুদক এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে। এর সঙ্গে কারও সম্পৃক্ততা পেলে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে ইত্তেফাকের রংপুর অফিসের স্টাফ রিপোর্টার জানিয়েছেন, রংপুর রেলওয়ে স্টেশনে পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে টিকিট কালোবাজারি এবং রেলওয়ে কর্মচারীদের দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগে অভিযান চালিয়েছে দুদক। সমন্বিত রংপুর জেলা কার্যালয়ের দুদক উপ-পরিচালক মো. শাওন মিয়া এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন।

অভিযান শেষে মো. শাওন মিয়া বলেন, স্টেশনের পরিচ্ছন্নতার পরিবেশ খুবই নাজুক। ঈদকে কেন্দ্র করে যাত্রীদের চাপ বেড়েছে। যাত্রীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে স্টেশন কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় দায়িত্বরত কর্মীদের গাফিলতি পাওয়া গেছে।  

রংপুর রেলওয়ে স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত সুপারিনটেনডেন্ট শংকর গাঙ্গুগুলী বলেন, দুদকের টিম টিকিট কালোবাজারির কোনো সরাসরি প্রমাণ পায়নি। তবে স্টেশনের বিভিন্ন স্থানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছে, সে বিষয়ে দুদক কর্মকর্তারা আমাদের অবগত করেছেন।

ইত্তেফাকের রাজশাহী অফিসের স্টাফ রিপোর্টার জানান রেলস্টেশনে, রাজশাহী রেলস্টেশনে অভিযান চালায় জেলা কার্যালয়ের চার সদস্যের একটি দল। এই দলের নেতৃত্বে ছিলেন জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আমির হোসাইন।

এ সময় দলটি স্টেশন ব্যবস্থাপকের রুমে টিকিট বিক্রি, যাত্রীসেবায় হয়রানি ও কুলির ভাড়ায় অনিয়মের ব্যাপারে রেল কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করেন। আসন্ন ঈদ উল আযহায় যাত্রীসেবার মান যেনো ঠিক থাকে, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়। কোনো অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে পরবর্তীতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান দুদকের কর্মকর্তারা।

অন্যদিকে ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করে ৩ সদস্যের দুদকের একটি দল। এসময় এ সময় রাজীব সরকার ও সোহেল রানা নামে দুই বুকিং কর্মচারীর কাছ থেকে কালোবাজারির টিকিট জব্দ করা হয়।

ময়মনসিংহ দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক মো. বুলু মিয়া বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় টিকিট কালোবাজারি এবং বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অভিযানকালে টিকিট কালোবাজারির প্রমাণ মিলেছে। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হবে।

ইত্তেফাক/এপি