কর্মসূচির শহর ঢাকা

গরম আর জ্যামে শিশু-রোগী-বৃদ্ধদের করুণ অবস্থা

আপডেট : ২৮ মে ২০২৫, ২০:৪৯

রাজধানীজুড়ে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর পৃথক সমাবেশকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজট। এতে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে ঢাকা শহর। কর্মদিবসে সকাল থেকে সড়কজুড়ে যানবাহনের দীর্ঘ সারি ও মানুষের চরম ভোগান্তি লক্ষ্য করা গেছে।

গন্তব্যস্থলে পৌছাতে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে প্রায় তিন/চার গুন বেশি সময় লাগছে। তীব্র জ্যামে বাসে থাকা শিশু, অসুস্থ রোগী ও বৃদ্ধদের অবস্থা হয়ে পড়েছে করুণ। প্রচণ্ড গরমে অসুস্থ হয়ে পড়েন অনেক যাত্রী। দীর্ঘ সময় জ্যামে আটকে থাকা বেশ কিছু অ্যাম্বুলেন্সও দেখা যায় সড়কে।

বিশেষ করে বাংলামোটর, শাহবাগ, রমনা, মতিঝিল, ফার্মগেটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় দীর্ঘ সময় আটকে থাকে হাজারো যানবাহন। স্কুলগামী শিশু, অফিসগামী মানুষ, রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স সবাইকে পোহাতে হয় এই সীমাহীন দুর্ভোগ।

বাংলামোটরে যানজটে আটকে থাকা এক ভুক্তভোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘দুপুর একটায় বনশ্রী থেকে রওনা হয়ে সাড়ে তিনটা বেজে গেলো এখনো কারওয়ান বাজার পৌঁছাতে পারিনি। অথচ অফিস তিনটায়। গাড়ির ভেতরে দম বন্ধ হয়ে আসছে। আমার সঙ্গে ছোট বাচ্চা, সে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এটা কোনোভাবে মেনে নেওয়া যায় না।’

তিনি আরও বলেন, ‘এভাবে জনগণের জীবন দুর্বিষহ করে দিয়ে রাজনীতি করলে মানুষ কীভাবে আপনাদের পাশে থাকবে? আন্দোলন বা সমাবেশ করতে চাইলে নির্ধারিত স্থানে করুক, জনগণের চলাচলের পথে কেন বাধা সৃষ্টি করতে হবে?’

আরেক নারী যাত্রী বলেন, ‘গাড়ির ভেতরে প্রচণ্ড গরম। রোদে গাড়ির জানালাও খুলতে পারছি না ভালোভাবে। আমার সঙ্গে ছোট একটা বাচ্চা আছে, সে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। ওর মুখে পানি দিতে পারছি না, ঠাণ্ডা হাওয়ার তো প্রশ্নই নেই। এমন অবস্থায় থেকে শুধু শারীরিক নয়, মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছি।’

সেই যাত্রী এক পর্যায়ে আবেগ ধরে রাখতে না পেরে বলেন, আমার সন্তান অসুস্থ হয়ে পড়েছে। যদি ওর কিছু হয়ে যায়,তার দায় কে নেবে? রাজনীতি করা যদি মানুষের জন্য হয়, তবে সেই রাজনীতিতেই যদি মানুষ কষ্ট পায় তাহলে সেটার অর্থ কী?’

এদিকে যানজটে কেবল যাত্রীরাই নয়, বিপাকে পড়েছেন বাসচালকরাও। বাংলামোটর এলাকায় আটকে থাকা বাসচালক সুমন বলেন, ‘সকালে বাস বের করেছি গাবতলি থেকে। এখন বিকেল প্রায় ৪টা বাজে, আমি এখনো তেজগাঁওয়ের কাছে। এক রাউন্ডও ঠিকভাবে শেষ করতে পারিনি। শুধু তেলই পুড়ছে, যাত্রী উঠছে না, নামছে না। রাস্তায় দাঁড়িয়ে থেকে আমরাও পাগল হয়ে যাচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘যাত্রীরা আমাদের গালমন্দ করে, অথচ আমাদেরও কোনো দোষ নেই। রাস্তা বন্ধ, সামনে পুলিশ, আমরা যাব কোথায়?  ঘনঘন এসব আন্দোলন হলে পরিবার চালানোই কঠিন হয়ে যাবে।’

আরেক চালক রফিক বলেন, ‘দিন শেষে আমাদের আয় হয় না বললেই চলে। মালিক থেকে চাপ পড়ে, যাত্রীদের ক্ষোভ নিতে হয় আমাদের, আবার পুলিশের চোখ রাঙানিও থাকে। এতসব সামলে চালানোটা মুশকিল হয়ে গেছে। আমরা চাই রাস্তাগুলো অন্তত চলাচলের জন্য খোলা থাকুক।’

বাসের হেলপার বলেন, ‘ভেতরে গরমে যাত্রীরা অস্থির হয়ে যাচ্ছে। অনেকেই বাসেই ঝগড়া করছে। আমরা কাউকে শান্ত করতেও পারছি না, কারণ আমরাও জ্যামে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি।’

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে, একই দিনে দুটি বৃহৎ রাজনৈতিক দলের কর্মসূচির কারণে রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোতে যান চলাচল বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে জনদুর্ভোগের বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে সমালোচনা।

ইত্তেফাক/এএম