কর্মের প্রতি যেমন ছিল একাগ্রতা, দায়িত্বের প্রতি তেমনই ছিলেন নিষ্ঠাবান। পৌরসভার সাধারণ মানুষের জন্য তার কক্ষ ছিল উন্মুক্ত, যে কোনো শ্রেণী পেশার মানুষের কথা তিনি গভীর মনোযোগ দিয়ে শুনতেন এবং সাধ্যমত নিয়মের মধ্যে থেকে সমাধানের চেষ্টা করতেন। পৌর এলাকায় সাধারণ মানুষসহ সকল শ্রেণীর পেশার মানুষের নয়নের মনি হয়ে উঠে ছিলেন প্রকৌশলী। যোগদানের কয়েক বছরের মধ্যেই তিনি সকলের প্রিয়ভাজন হয়ে উঠেছিলেন।
গ্রীষ্ম বর্ষা শীতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ এবং সরকারি সেবা তিনি সাধারণ জনগণের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। পৌর এলাকার রাস্তাঘাটের যেকোনো সমস্যা তিনি নিজে গিয়ে সমাধান করতেন। পৌর প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাধারণ জনগণের হৃদয়ে এক অনন্য উচ্চতায় স্থান করে নিয়েছিলেন যিনি, তিনি হলেন- আখাউড়া পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) মো.ফয়ছেল আহাম্মদ খান।
বুধবার (২৮ মে) দুপুরে বদলি জনিত কারণে বিদায় সংবর্ধনা দিয়েছেন পৌর প্রশাসনের সকল কর্মকর্তা কর্মচারী, সাংবাদিকবৃন্দ, সকল শ্রেণী-পেশার মানুষ। অশ্রুসিক্ত ফুলেল ভালোবাসায় প্রকৌশলী ফয়ছেল আহাম্মদ খানকে বিদায় দিয়েছেন তারা।
ফয়ছেল আহাম্মদ খানকে তার বিদায় সংবর্ধনায় এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বিদায়কালীন সময়ে আবেগ তাড়িত অশ্রুসিক্ত নয়নে বলেন, তার চাকরি জীবনের প্রথম কর্মস্থল আখাউড়া। আখাউড়ার মানুষদের তিনি মনে রাখবেন সারা জীবন। আখাউড়ায় দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছরের কর্মজীবনে যে ভালোবাসা এবং সহযোগিতা পেয়েছি তা আমি কোনদিন ভুলবো না।
এদিকে উপজেলা অফিসার্স ক্লাবের উদ্যোগে বুধবার দুপুরে উপজেলা সম্মেলন কক্ষে আখাউড়া পৌরসভার উপ-সহকারি প্রকৌশলী মোঃ ফয়ছেল আহমেদ খানকে বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা নির্বাহী অফিসার জি.এম. রাশেদুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা আবু ইউসুফ নুরুল্লাহর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ হিমেল খান, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা রওনক জাহান, আখাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ছমিউদ্দিন, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (অতি: দায়িত্ব) ডাঃ কামরান উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, সরকারি চাকুরী বদলী একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এটি মেনে নিতেই হবে। বদলী মানে নতুন পরিবেশে যাওয়ার সুযোগ। নতুন উদ্যমে কাজ করার সুযোগ। তবে, খারাপ লাগবে যে, আমরা একজন ভালো মানুষকে হারালাম। ফয়ছেল খান ভদ্র হাস্যোজ্জল মানুষ ছিলেন। কাজের প্রতি সিনসিয়ার ছিলেন। বক্তারা নতুন কর্মস্থলে তার সফলতা কামনা করেন।
পৌরসভার উপ-সহকারি প্রকৌশলী মোঃ ফয়ছেল আহমেদ খান সবার কাছে দোয়া চান। বক্তৃতায় এক পর্যায়ে তার চোখ ছল ছল করে উঠে।
পরে বিদায়ী কর্মকর্তা ফয়ছেল খানের হাতে শুভেচ্ছা স্মারক হিসেবে ক্রেষ্ট তুলে দেন ইউএনওসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।
উপজেলা অফিসার্স ক্লাব, উপজেলা প্রশাসন রাজনৈতিক সংগঠন, মুক্তিযোদ্ধা সংগঠন, বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক, পেশাজীবী সংগঠন, স্থানীয় সাংবাদিক, উপজেলার বিভিন্ন জনপ্রতিনিধিবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য সুধীজন প্রকৌশলী ফয়ছেল আহাম্মদ খান কে অশ্রুসিক্ত বিদায় জানান।
প্রকৌশলী ফয়ছেল আহাম্মদ খান সাংবাদিকদের বলেন, আমি চেষ্টা করেছি সরকারি নির্দেশনা মেনে আমার দায়িত্ব পালন করতে। এক্ষেত্রে আখাউড়ার সাধারণ মানুষ ও সকল পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা এবং সমর্থন ছিল। পেয়েছি সকলের নিরন্তর ভালোবাসা। আখাউড়া পৌরসভা তে কাজ করতে পেরে নিজেকে অনেক ভালো লেগেছে, আমি মনে করি এটি আমার চাকরি জীবনের সেরা সঞ্চয়, আখাউড়া পৌর বাসী আমাকে অনেক ভালোবেসেছে এজন্য আখাউড়া পৌর বাসীর নিকট আমি চির কৃতজ্ঞ।
আখাউড়া প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী হান্নান খাদেম বলেন, কিছু কিছু মানুষের সাথে একটা আত্মা ও ভালবাসার বন্ধন তৈরী হয়। আখাউড়া পৌরসভার প্রকৌশলী ফয়ছেল আহাম্মদ খান এর সাথে সর্বস্তরের মানুষের সাথে তেমনই একটা বন্ধন তৈরি হয়েছিল যা আমাদের এবং আখাউড়া বাসী বহুকাল হৃদয়ে লালন করবে।
