হত্যাচেষ্টা মামলায় কারাগারে জবির অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক আনোয়ারা বেগম

আপডেট : ২৯ মে ২০২৫, ১৮:২৯

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হত্যাচেষ্টা মামলায় মুক্তিযোদ্ধা ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক অধ্যাপক এসএম আনোয়ারা বেগমের জামিন নামঞ্জুর করা হয়েছে। একইসঙ্গে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (২৯ মে) শুনানি শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমান এ রায় দেন।

এর আগে, বুধবার সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে থেকে আনোয়ারা বেগমকে আটক করেন শিক্ষার্থীরা। পরে সূত্রাপুর থানায় খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে থানায় নিয়ে আসে তাকে।

পরে আজ তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সূত্রাপুর থানার এসআই এ কে এম মাহমুদুল কবির মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে তাকে আটক রাখার আবেদন করেন। 

তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, এজাহার নামীয় আসামি আনোয়ারা বেগম। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সঙ্গে তার জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে, যা যাচাই করা হচ্ছে। যদি তিনি জামিন পান, তাহলে তিনি চিরতরে পালিয়ে যাবেন। তাই তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখা প্রয়োজন।

অপরদিকে আসামি পক্ষের আইনজীবী ওবাইদুল ইসলাম জামিন আবেদন করেন। শুনানিকে তিনি বলেন, এই ঘটনার সঙ্গে আনোয়ারা বেগম জড়িত ছিলেন না এবং কেবল হয়রানির জন্যই তাকে মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। তাই মানবিক কারণে তাকে জামিন দেওয়া উচিত। এছাড়া রাষ্ট্র পক্ষে জামিনের বিরোধিতা করা হয়। 

উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে ম্যাজিস্ট্রেট আসামিপক্ষের আবেদন খারিজ করে এ আদেশ দেন। পরে তাকে গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।

সূত্রাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে গত ফেব্রুয়ারি মাসে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুজন মোল্লা বাদী হয়ে সূত্রাপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এই মামলার ৪৩ নম্বর আসামি আনোয়ারা বেগম।

মামলার বাদী সুজন মোল্লা বলেন, এদের মতো দলকানা শিক্ষকদের জন্য স্বৈরাচারী আমলে শিক্ষক সমাজ কলঙ্কিত হয়েছে। উনি বলতেন, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে যারা কাজ করে, তারা রাজাকার। আর যেহেতু ছাত্রদল-শিবির আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কাজ করে, তাই এরাও রাজাকার। এদেরকে গুলি করে মারা উচিত।

সুজন আরও জানান, পিএসসির সদস্য থাকা অবস্থায় ছাত্রলীগ ছাড়া তিনি কাউকে বিসিএসের জন্য উত্তীর্ণ করতেন না। উনার মতো আওয়ামী দোসরদের সঠিক বিচার দাবি করছি। কারণ উনারা ছাত্রলীগের মাফিয়াদের পুলিশ প্রশাসনে নিযুক্ত করেছেন এবং ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগকে টাকা দিয়ে ছাত্রদলসহ অন্যান্য ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছেন।

জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সুজন মোল্লার চোখে গুলি লাগে। ওই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, কর্মকর্তা ও ছাত্রলীগের ৯৪ জনসহ মোট ১৯৩ জনের বিরুদ্ধে তিনি মামলা দায়ের করেন। মামলায় শেখ হাসিনাকে এক নম্বর আসামি করা হয়েছে। 

এছাড়া, আওয়ামী লীগের বাকি উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক তথ্যমন্ত্রী আরাফাত রহমান ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস।

ইত্তেফাক/এনটিএম/এমএস