গাজায় ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির জন্য মার্কিন রাষ্ট্রদূতের প্রস্তাব পেয়েছে ইসরায়েল: রিপোর্ট

আপডেট : ২৯ মে ২০২৫, ২১:০৮

গাজা উপত্যকার পরিস্থিতি নিষ্পত্তির জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের একটি নতুন প্রস্তাবে ৬০ দিনের জন্য তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতির কথা উঠে এসেছে। প্রস্তাবে প্রথম সপ্তাহে দুটি পর্যায়ে ১০ জন জিম্মিকে মুক্তি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সূত্রের বরাত দিয়ে হিব্রু মিডিয়া 'Ynet' এ কথা জানিয়েছে।

সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদন অনুসারে, যুদ্ধবিরতির প্রথম সপ্তাহে ফিলিস্তিন-ভিত্তিক প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসকে ১৮ জন নিহত জিম্মির দেহাবশেষ ইসরায়েলের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। প্রতিক্রিয়ায়, ইসরায়েলি পক্ষকে পূর্বে অনুমোদিত তালিকা অনুসারে ফিলিস্তিনি বন্দীদের মুক্তি দিতে হবে।

এছাড়া নতুন প্রস্তাবে জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমে গাজা উপত্যকায় মানবিক সহায়তা পুনরায় সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমটি উল্লেখ করেছে, পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি চলাকালীন সংঘাতপূর্ণ গাজা উপত্যকায় যুদ্ধ শেষ করার জন্য আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। সংঘাতের পক্ষগুলো এই বিষয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর পর অবশিষ্ট জিম্মিদের মুক্তি দেওয়া হবে। ৬০ দিনের মধ্যে যদি কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো না যায়, তাহলে ইসরায়েলের কাছে গাজায় পুনরায় আগ্রাসন শুরু করবে ইসরায়েল। অতিরিক্ত জিম্মিদের মুক্তির বিনিময়ে যুদ্ধবিরতি এবং শান্তি আলোচনার সময়কাল বাড়ানো যেতে পারে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুসারে, বৃহস্পতিবার (২৯ মে) ইসরায়েল মার্কিন দূত উইটকফের কাছ থেকে নতুন প্রস্তাবটি পেয়েছে। তবে নেতানিয়াহুর প্রশাসন এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

বার্তা সংস্থা তাসের প্রতিবেদন অনুসারে, এর আগে গতকাল উইটকফ হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতির জন্য 'একটি নতুন টার্মশিট' ইসরায়েল এবং হামাসের কাছে পাঠানোর পরিকল্পনা করছে।

গত ২৫ মে কাতারের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আব্দুল রহমান আল থানি বলেছিলেন, গাজা উপত্যকার সংঘাত নিরসনের জন্য হামাস এবং ইসরায়েলের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা অচলাবস্থায় আছে। তিনি উল্লেখ করেন, দোহায় আলোচনায় দেখা গেছে যে, ইসরায়েল কেবল ফিলিস্তিনি অঞ্চলটিতে আটক জিম্মিদের মুক্তির জন্য একটি চুক্তি করতে চায়, অন্যদিকে হামাস শত্রুতা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার ওপর জোর দেয়।

ইত্তেফাক/এসকে