দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে জনশক্তি ব্যুরো কার্যালয়ে দুদকের অভিযান

আপডেট : ২৯ মে ২০২৫, ২১:৫৩

পেটের দায়ে পরিবারের মুখে একটু হাসি ফোটাতে দেশ ছাড়ছেন বাংলাদেশের বহু নারী। কিন্তু স্বপ্নের বিদেশে পা রেখেই সেই স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে রূপ নিচ্ছে। তারা প্রতিনিয়ত শিকার হচ্ছেন যৌন নিপীড়ন, শারীরিক নির্যাতন আর নিঃস্ব করে ফেলা এক নিষ্ঠুর বাস্তবতার। এরপর এসব নারীর কেউ কেউ বিদেশ থেকে ফিরছেন অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায়, কেউ বা সদ্যোজাত সন্তান কোলে নিয়ে। দেশে ফিরে পরিবার ও সমাজের তির্যক দৃষ্টির শিকার হচ্ছেন তারা, হারাচ্ছেন ঠাঁই, সম্ভ্রম ও স্বীকৃতি- সবকিছুই। অথচ এ নারীরাই জীবন বাজি রেখে দেশের রেমিট্যান্সের চাকা সচল রেখেছেন।

এই মানবিক বিপর্যয়ের পেছনে সক্রিয় রয়েছে একটি সুসংগঠিত পাচারকারী চক্র, যারা কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ভুয়া কাগজপত্রে কিশোরীদের বিদেশে পাঠাচ্ছে। এই চক্রটির সঙ্গে জড়িত অন্তত চারজন বিএমইটি (জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো) কর্মকর্তার সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলেছে। জড়িত রয়েছে অর্ধশতাধিক রিক্রুটিং এজেন্সি। প্রশিক্ষণ ছাড়াই, ভুয়া পাসপোর্ট নম্বর ব্যবহার করে, প্রত্যাগত দেখিয়ে শত শত অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীকে পাঠানো হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে। 

এমন সব অভিযোগ থেকেই বৃহস্পতিবার সকালে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) রাজধানীর কাকরাইলে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোতে (বিএমইটি) অভিযান চালিয়েছে। দুদকের প্রধান কার্যালয়ের চার সদস্যের একটি টিম এই অভিযান চালায়। আভিযানিক দলে ছিলেন, দুদকের সহকারী পরিচালক আবু বকর সিদ্দিক, সহকারী পরিচালক স্বপন কুমার রায়, সহকারী পরিচালক রাজু আহমেদ ও সহকারী পরিচালক মুবাশ্বিরা আতিয়া তমা। 

অভিযানকারী কর্মকর্তারা জানান, জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো, ঢাকার অসাধু কর্মকর্তা ও বিভিন্ন এজেন্সির বিরুদ্ধে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে নারীদের বিদেশে পাচারের মাধ্যমে অবৈধ অর্থ অর্জনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন, প্রধান কার্যালয় থেকে একটি এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালিত হয়। 

অভিযানকালে টিম কর্তৃক সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করা হয়। দৈবচয়নের ভিত্তিতে আবেদনকারী ও এজেন্সির কয়েকটি ফাইল পর্যালোচনায় ৮ জন ব্যক্তির দাখিলকৃত পাসপোর্টে উল্লিখিত রেফারেন্স পাসপোর্ট নম্বরে প্রার্থীর নাম সঠিক হলেও পারিবারিক বিবরণ ভিন্ন পাওয়া যায়। যা জালিয়াতির মাধ্যমে করা হয়েছে মর্মে টিমের নিকট প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে। 

এছাড়া কয়েকটি পাসপোর্ট নম্বর যাচাইয়ে গৃহকর্মী হিসেবে গমনেচ্ছু কর্মীদের নির্ধারিত বয়স ২৫ বছরের কম, এমনকি তারা কিশোরী হওয়া সত্তে¡ও তাদেরকে ক্লিয়ারেন্স প্রদান করা হয়েছে মর্মে টিমের নিকট প্রাথমিকভাবে পরিলক্ষিত হয়েছে। এ সংক্রান্ত সকল রেকর্ডপত্র সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে প্রাপ্ত অনিয়মসমূহের বিষয়ে কমিশনের সিদ্ধান্ত চেয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করা হবে বলে কর্মকর্তারা জানান। 

ইত্তেফাক/এমএস