যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যানের পথে হামাস

আপডেট : ৩০ মে ২০২৫, ১২:৩৭

গাজায় যুদ্ধবিরতি এবং জিম্মিদের মুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থিত নতুন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করতে যাচ্ছে হামাস। সশস্ত্র এই ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীর এক শীর্ষস্থানীয় নেতা বিবিসিকে জানান, প্রস্তাবে তাদের মূল দাবিগুলো উপেক্ষিত হওয়ায় হামাস তা মেনে নিচ্ছে না।

হোয়াইট হাউস বৃহস্পতিবার (২৯ মে) জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত ব্রেট ম্যাকগার্ক ও উইটকফের সমন্বয়ে গৃহীত নতুন যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে ইসরায়েল সম্মতি দিয়েছে। এখন তারা হামাসের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। তবে হামাস নেতা জানান, তাদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া যথানিয়মে লিখিত আকারে জানানো হবে।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির বিপরীতে হামাসকে দুটি ধাপে ১০ জন জীবিত এবং ১৮ জন মৃত জিম্মি মুক্তি দিতে বলা হয়েছে। এর বিনিময়ে ইসরায়েল ফিলিস্তিনি বন্দিদের ছেড়ে দেবে। কিন্তু হামাসের ওই কর্মকর্তা বলেন, এ প্রস্তাবে যুদ্ধের স্থায়ী সমাপ্তি, মানবিক সহায়তা ও পূর্ববর্তী যুদ্ধবিরতির মতো সহনশীল ব্যবস্থার কোনো নিশ্চয়তা নেই।

ইসরায়েল সরকার এখনও এই প্রস্তাব নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলেনি। তবে বেশ কয়েকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বৃহস্পতিবার জিম্মিদের পরিবারের সদস্যদের জানান, তিনি প্রস্তাবটি মেনে নিয়েছেন।

এর আগে, যুক্তরাষ্ট্র, কাতার ও মিশরের মধ্যস্থতায় গাজায় দুই মাসব্যাপী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল। তবে সেটি গত ১৮ মার্চ ভেঙে পড়ার পর ইসরায়েল ফের হামাসের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে এবং গাজা ভূখণ্ডে কঠোর অবরোধ আরোপ করে। ইসরায়েলি ভাষ্য অনুযায়ী, তারা হামাসের হাতে থাকা ৫৮ জন জিম্মিকে ফেরত আনার লক্ষ্যেই অভিযান চালাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, এদের মধ্যে অন্তত ২০ জন এখনও জীবিত।

চলতি মাসের ১৯ তারিখ থেকে ইসরায়েল গাজায় পূর্ণাঙ্গ স্থল অভিযান শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু জানান, এই অভিযানের মাধ্যমে গাজার প্রতিটি এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হবে। পরদিন তিনি বলেন, মানবিক বিপর্যয় এড়াতে ইসরায়েল সীমিত পরিমাণ খাদ্য ঢুকতে দিচ্ছে গাজায়।

হামাস-নিয়ন্ত্রিত গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ সপ্তাহে সেখানে প্রায় ৪ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়, জাতিসংঘ জানিয়েছে, ইসরায়েলি হামলা ও বাস্তুত্যাগের নির্দেশের কারণে আরও ছয় লাখ মানুষ ঘরছাড়া হয়েছে।

বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির সহযোগী সংস্থা আইপিসি সতর্ক করে জানিয়েছে, আগামী মাসগুলোতে গাজায় প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ চরম খাদ্য সংকট ও দুর্ভিক্ষের মুখোমুখি হতে পারে।

ওয়াশিংটনে বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের এক সংবাদ সম্মেলনে প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট বলেন, 'যুক্তরাষ্ট্র একটি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব হামাসের কাছে পাঠিয়েছে, যার প্রতি ইসরায়েল সমর্থন জানিয়েছে। আলোচনা এখনো চলছে। আমরা আশাবাদী, একটি যুদ্ধবিরতি অর্জিত হবে এবং সকল জিম্মি নিরাপদে ঘরে ফিরবে।'

হামাসের এক সিনিয়র নেতা বিবিসিকে জানান, পূর্ববর্তী আলোচনা ও নতুন প্রস্তাবের মধ্যে বেশ কিছু মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। নতুন প্রস্তাবে যেমন দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধবিরতির নিশ্চয়তা নেই, তেমনি আগের মতো প্রতিদিন ত্রাণবাহী শত শত ট্রাক প্রবেশের ব্যবস্থাও নেই।

তবে তিনি নিশ্চিত করেন, হামাস মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে এবং তাদের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া যথাযথ প্রক্রিয়ায় জানাবে।

ইত্তেফাক/টিএইচ