সাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপে সৃষ্ট দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার সঙ্গে নৌযান চলাচল বন্ধ রেখেছে প্রশাসন। ফলে হাতিয়ার চেয়ারম্যান ঘাটে আটকা পড়েছে অনেকে।
বৃহস্পতিবার (২৯ মে) ও শুক্রবার (৩০ মে) এ ঘাটে একে একে ৪টি মরদেহ নিয়ে হাতিয়ার ওছখালি যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে স্বজনরা।
অপেক্ষায় থাকা স্বজনরা জানায়, কেউ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে অপেক্ষায় আছে, কেউ শুক্রবার সকাল থেকে চেয়ারম্যান ঘাটে মরদেহবাহী এ্যাম্বুলেন্স নিয়ে অপেক্ষায় রয়েছে। কিন্তু বৈরি আবহাওয়ার কারণে নলচিরা ঘাটে যেতে পারছে না তারা। প্রশাসন চাইলে মরদেহগুলো হাতিয়ার নলচিরা ঘাটে পৌঁছে দিতে পারে। তাহলে তাদের নিজ ভূমিতে দাফন করা যেতে। কিন্তু বর্তমানে স্বজনরা মরদেহগুলো নিয়ে শঙ্কিত রয়েছে। কারণ যে কোনো সময় মরদেহগুলো পঁচে যেতে পারে।
এদিকে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিন্মচাপের প্রভাবে নোয়াখালীতে গত ২৪ ঘণ্টায় ২৮৫ মিলি মিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অফিস। যা মৌসুমের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড। এতে উপকূলীয় এলাকা হাতিয়া, নিঝুমদ্বীপ ও কোম্পানীগঞ্জের বেশ কিছু নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। তবে বৃহস্পতিবারের তুলনায় শুক্রবার জোয়ারের পানি কিছুটা কমেছে। জেলা শহর মাইজদীর জলাবদ্ধতাও কমতে শুরু করেছে। শুক্রবার ভোর থেকে বৃষ্টি কম হওয়ায় সড়ক ও বিভিন্ন এলাকায় জমে থাকা পানি সরতে শুরু করে।
হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জানান, ঝড়ো বাতাস ও সাগর উত্তাল থাকায় তৃতীয় দিনের মতো হাতিয়ার সঙ্গে সারাদেশের নৌ-যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। নদীর অবস্থা স্বাভাবিক হলে নৌযান চলাচল স্বাভাবিক করা হবে। মরদেহগুলোর বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
