এশিয়ান কাপ ফুটবলে আগামী ১০ জুন ঢাকায় সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে বাংলাদেশ প্রাথমিক দল ঘোষণা করা হয়েছে বুধবার। কোচ হ্যাভিয়ের কাবরেরা ২৬ জনের দল ঘোষণা করেছেন। কিন্তু তার দলটি নিয়ে ফুটবল অঙ্গনে সেই পুরোনো সমালোচনা ভেসে বেড়াচ্ছে। কোচ নির্মোহ দৃষ্টিতে তালিকা করেননি। বসুন্ধরা কিংসের ফুটবলারদের গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। শেখ মোরসালিন কিংসের ফুটবলার।
কিন্তু ক্লাবে একাদশে জায়গা পান না মোরসালিন। অথচ এবারও তাকে জাতীয় দলে রাখা হয়েছে। একেবারেই খেলেননি, তার পরও মোরসালিনকে ভারতের বিপক্ষে একাদশে নামিয়েছিলেন কোচ। এবারও মোরসালিনকে দলে নিয়েছেন, কারণ একাদশে না খেললেও মোরসালিন যতটুকু খেলেছেন, তা দলের মতো মনে করেছেন কোচ। ওয়ান্ডারার্সের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেছেন, তারও আগের ম্যাচে এক গোল করেছেন। সেগুলো কোচের চোখে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তাই অটোমেটিক চয়েস মোরাসালিন। অথচ ফর্টিসের পিয়াস আহমেদ নোভা নিয়মিত ভালো খেললেও তাকে ডাকার প্রয়োজন মনে করেন না কোচ। পিয়াসও গোল করেছেন, গোল করিয়েছেন, তার পরও কোচের চোখে পড়েননি নোভা।
কোচ নিয়মিত লিগের খেলা দেখেননি। বেশির ভাগ সময় দেশের বাইরে ছিলেন। আর যদি খেলা দেখেন, সেটা নির্ধারিত কিছু খেলোয়াড়ের খেলা দেখতে তিনি অভ্যস্ত। বিদেশে থাকলেও খেলা দেখেন বলে দাবি করেছেন কোচ। ২৬ জনের তালিকা ঘোষণার দিন কোচ বলেছেন, তিনি টিভিতে খেলা দেখেন। প্রিমিয়ার ফুটবলের খেলা যতটা টিভিতে সম্প্রচার করা হয়েছে, তার চেয়ে বেশি সম্প্রচার করা হয়েছে ইউটিউবে। এভাবে যারা খেলা দেখেছেন, তারা ত্যক্তবিরক্ত। চোখের ক্ষতি।
কোচ খেলা দেখেছেন বলে তিনি দাবি করে বলেন, 'আমি টিভিতে খেলা দেখেছি'। টিভি সম্প্রচার এতই দুর্বল ছিল, যেন কোন খেলোয়াড় কোনদিকে যাচ্ছেন, বল কোথায় যাচ্ছে। কোনো কিছুই বোঝা যায় না। দুর্বল সম্প্রচার, তার পরও কোচের দাবি, তিনি সবই দেখেছেন। বসুন্ধরা কিংস লিগে ১৫ গোল হজম করেছে, ফেডারেশন কাপে ৭ গোল হজম করেছে। তাদের রক্ষণভাগের কী অবস্থা, সেটা সহজেই বোঝা যায়। সাদ উদ্দিন, তারিক কাজী, তপু বর্মন, গোলরক্ষক মেহেদি হাসান শ্রাবণরা নড়বড়ে। রেলিগেশন হওয়া ওয়ান্ডারার্সের বিপক্ষে ৩ গোল হজম করেছে বসুন্ধরা কিংসের রক্ষণ। তবুও কিংসের রক্ষণ নিয়েই জাতীয় দলের রক্ষণ তৈরি হয়।
সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে দলটা কেমন হয়েছে? আবাহনীর কোচ মারুফুল হকের দাবি, আরো কিছু ভালো ভালো ফুটবলার দলে নেওয়ার সুযোগ ছিল। পুলিশের গোলরক্ষক তুষার খুব ভালো খেলেছেন। মারুফুলের চোখে পুলিশের গোলরক্ষক তুষারকে সুযোগ দেওয়া উচিত ছিল। তিনি বলেন, 'তুষার খেলাটাকে তৈরি করতে পারেন। নিচ থেকে খেলাটাকে গড়ে তুলতে পারেন। খুবই কুইক কাউন্টার এটাক তৈরি করতে পারেন তুষার।'
মারফুল নিজে কোচ, খেলা দেখেন। নির্মোহ চোখে কথা বলেন। মোহামেডানের লিগ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পেছনে রক্ষণভাগে মেহেদি হাসান মিঠুর অবদান সবার জানা। মারুফুলের আফসোস হচ্ছে মিঠুকে নিয়ে। রক্ষণভাগে মিঠুকে জাতীয় দলে নেওয়া যেত। মারুফুল বললেন, 'মিঠু সুযোগ পাবে, সেটাই তো স্বাভাবিক। তার পারফরম্যান্স সবার জানা। কেন মিঠুকে নেওয়া হলো না, আমার বোধগম্য নয়।'
ব্রাদার্স ইউনিয়নের কৌশিকের কথা উল্লেখ করেছেন মারফুল হক। এবারের লিগে ব্রাদার্স পঞ্চম হয়েছে। মধ্যমাঠে কৌশিক একাই দলটাকে ধরে রেখেছিলেন বলে জানান মারুফুল। তিনি বলেন, 'কৌশিক খেলাটা তৈরি করে দিয়েছেন বলেই বিদেশিরা গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন।' মারুফুল জানালেন পুলিশের মানিক মোল্লার কথা এড়িয়ে যাওয়া যায় না। ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলে এসেছে। ফর্টিসের পিয়াস আহমেদ নোভার কথা যদি বলি, তাহলে সেও কাল গোল করেছেন। লিগে গোল করেছেন, অ্যাসিস্ট রয়েছে। শারীরিক উচ্চতার দিক থেকেও পিয়াস জাতীয় দলে কাজে লাগতে পারতেন খুব সহজেই।'
