নেশাদ্রব্যের ব্যবহার কমাতে সামাজিক আন্দোলনের আহ্বান এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যানের

আপডেট : ৩০ মে ২০২৫, ১৯:২৮

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান ও সচিব মোহাম্মদ আবদুল মজিদ বলেছেন, তামাকজাত দ্রব্যের উৎপাদন ও গ্রহণ কমাতে কর বাড়ানোই যথেষ্ট নয়, এ জন্য জোরাল সামাজিক আন্দোলন প্রয়োজন। শুক্রবার (৩০ মে) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে মাদকদ্রব্য ও নেশা নিরোধ সংস্থার (মানস) সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন তিনি।

এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান বলেন, তামাক খাত রাজস্বের অন্যতম উৎস। ট্যাক্স যতই আমরা বাড়াই না কেন, তা তামাকজাত দ্রব্য উৎপাদন বা গ্রহণ কমাতে পারব না। সেটি কমানোর জন্য একমাত্র উপায় সামাজিক আন্দোলন করা, স্ববিরোধী থেকে বেরিয়ে আসা। 

মোহাম্মদ আবদুল মজিদ বলেন, তামাক বা নেশাদ্রব্য কমানোর জন্য ট্যাক্স বাড়িয়ে দিচ্ছি আমরা। তাতে রেভিনিউ উন্নতি হচ্ছে, তবে আসলেই নেশাদ্রব্য কি কমানো যাচ্ছে? যিনি খাবেন, তিনি তো খাবেনই। নেশাদ্রব্য ব্যবহার কমাতে তামাক ও অন্যান্য নেশাদ্রব্যের ক্ষতিকর সম্পর্কে আমাদের জানাতে হবে ও এর উপলব্ধি বোঝাতে হবে। ট্যাক্স বাড়িয়ে সেটি কমানো যাবে না, বরং সামাজিক আন্দোলন করতে হবে। 

রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান বলেন, ধান চাষের চেয়ে যদি তামাক চাষে আয় বাড়ে, তাহলে তো তারা তামাকই চাষ করবে। যুবসমাজ রক্ষার জন্য ধান চাষই করতে হবে এটি কৃষকদের বোঝাতে হবে। সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুললে নিজের ভালো যখন উপলব্ধি করবে, এসব গ্রহণ করা থেকে তখনি বিরত থাকবে। এসব বন্ধ করার জন্য ট্যাক্স বাড়িয়ে স্বাস্থ্য খাতে খরচ বাড়াতে চাই না আমরা।

এ সময় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অনুষ্ঠানের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ড. অরূপরতন চৌধুরী। তিনি বলেন, বিশ্বের এক নীরব মহামারির নাম ‘তামাক’। এত বড় দ্বিতীয় মহামারির তামাক ছাড়া আর কোনো কারণ নেই। সারা বিশ্বে বছরে ৮৭ লক্ষাধিক মানুষের প্রাণহানির কারণ হতে পারে এটি। তামাকের ভয়াবহতা আমাদের দেশেও উদ্বেগজনক। তামাকের কারণে সৃষ্ট রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন ৪৪৫ জন মানুষ মারা যায়। অথচ তেমন কোনো আলোচনা বা খবর নেই এ বিষয়ে। যথেষ্ট প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা নেই অকালমৃত্যু প্রতিরোধে। তামাক বা নেশাদ্রব্য নিরোধ করতে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে আমাদের।

সংবাদ সম্মেলনে মাদকদ্রব্য ও নেশা নিরোধ সংস্থার বিভিন্ন পর্যায়ের ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ইত্তেফাক/এনটিএম/এমএস