গত কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ, পাহাড়ে ঢল এবং সমুদ্রের উচ্চ জোয়ারের পানিতে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে ছনুয়া, চাম্বল, গন্ডামারা, সরল, বাহারছাড়া, খানখানাবাদ ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে বেরিবাঁধ ভেঙ্গে লোকালয়ে সমুদ্রয়ের লোনা পানি প্রবেশ করেছে এবং স্থানীয় চিংড়িঘের, সবজি ও পান খেতে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
জানা গেছে, শুক্রবার (৩০ মে) সকালে ছনুয়া খানখানাবাদ, চাম্বল, এলাকায় বেরিবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করলে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে তাৎক্ষণিক পানি ঢোকা বন্ধ করার ব্যবস্থা করা হয়।
উপজেলা কৃষি অফিসের সূত্র থেকে জানা যায়, বাঁশখালী উপজেলায় ৩২২০ হেক্টর গ্রীষ্মকালীন শাকসবজী চাষ করা হয়, যার মধ্যে দুর্যোগ আক্রান্ত ফসল ১৫৫০ হেক্টর । যার মধ্যে মাঠে দণ্ডায়মান আউশ বীজতলা ৮০ হেক্টর এবং দুর্যোগ আক্রান্ত ৭০ হেক্টর।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শ্যামল চন্দ্র সরকার জানান, গত দুদিন ধরে ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ের ঢলে এবং উচ্চ জোয়ারের বেশ কয়েকটি এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতি হিসাব পেতে দুই-এক দিন সময় লাগবে। বিভিন্ন ইউনিয়নে মাঠ কর্মীরা এ বিষয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।
ছনুয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নুরুল আমিন ছানবী বলেন, ‘সকালে ছনুয়া দুই নম্বর ওয়ার্ডে এলাকায় সমুদ্রের উচ্চ জোয়ারের ফলে বেরিবাঁধ লোকালয়ে পানি প্রবেশ করলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে তাৎক্ষণিক মাটি কেটে পানি ঢোকা বন্ধ করা হয়েছে’।
বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জামশেদুল আলম জানান, ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ের ঢলে এবং সমুদ্রর জোয়ারের ফলে কোথাও তেমন ধরনের বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে এ বিষয়ে সব সময় খোজ খবর নেওয়া হচ্ছে। শুক্রবার সকালে ছনুয়া ও খানখানাবাদ, চাম্বল কিছু কিছু জায়গায় বেড়িবাঁধ অতিক্রম করে সমুদ্রর লোনা পানি প্রবেশ করলে জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে মাটি কেটে সেগুলো তাৎক্ষণিক বন্ধ করা হয়েছে।
এদিকে বাঁশখালী উপজেলা সিপিবির রেডিও অপারেটর মিটু কান্তি দাশ জানান, দেশের আবহাওয়ার অবস্থা খারাপ হওয়ায় বাঁশখালীর বিভিন্ন জায়গায় সিপিবির স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।
