রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বিভিন্ন অংশে ৫৩টি ভুমিধস, নিহত ১

আপডেট : ০২ জুন ২০২৫, ২১:৪৫

কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের ৩৩টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৫৩ জায়গায় ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে মাটি চাপা পড়ে এক মিয়ানমারের নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। এসময় আরো ও দুইজন গুরুতর আহত হয়।এছাড়া বজ্রপাতে আহত হয় ১১ জন।একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেড় হাজারের কাছাকাছি ঝুপড়ি ঘর।

সোমবার (২ জুন) সন্ধ্যায় এক বার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ইউএনএইচসিআর সাব-অফিস কক্সবাজারের যোগাযোগ সহযোগী মোশারফ হোসেন।

তিনি আরও বলেন, এই সপ্তাহের শেষে আরম্ভ হওয়া প্রবল বৃষ্টিপাত জনবহুল শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে আঘাত করেছে। এতে হাজারো রোহিঙ্গা শরণার্থীর অস্থায়ী আশ্রয়স্থল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মাত্র দুই দিনের ভারী বর্ষণে ৩৩টি শিবিরে ৫৩টি ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। একইসঙ্গে বন্যা ও ঝড়ো হাওয়ায় ১৪০০টির বেশি আশ্রয়স্থল ক্ষতির সম্মুখীন। দেওয়াল ধসে একজন প্রাণ হারিয়েছেন ও বজ্রপাতে আহত হয়েছেন ১১ জন। যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক।

অন্তবর্তীকালীন ইউএনএইচসিআর প্রতিনিধি জুলিয়েট মুরেকেইসনি বলেন, “খাড়া ঢালু জায়গা, বন্যা ও অস্থায়ী আশ্রয় মিলিয়ে ঘনবসতিপূর্ণ এই এলাকায় বিপজ্জনক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। আর ঝড়ো হাওয়া বাঁশ ও ত্রিপল দিয়ে তৈরী ঘরগুলোকে আরও দুর্বল করে তুলেছে।”

তিনি আরও বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে এবং কমিউনাল সেন্টারগুলোতে স্থানান্তরে শরণার্থী স্বেচ্ছাসেবকরা সহায়তা করছেন। কিন্তু শেল্টারের জন্য আমাদের আরও জায়গা দরকার। আক্রান্ত পরিবারদের অস্থায়ীভাবে আশ্রয় দিতে কমিউনাল স্থাপনাগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে বর্ষার আগেই শরণার্থী ক্যাম্পে আশ্রয়ের জন্য যথেষ্ট জায়গা ছিল না। বিশেষ করে মিয়ানমারে রাখাইন রাজ্যে সুনির্দিষ্ট সহিংসতা ও হত্যার শিকার হয়ে গত কয়েক মাস হাজার হাজার রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছেন। অনেকেই আগে পালিয়ে আসা, তাদের আত্মীয়ের ঘরে আশ্রয় নিয়েছেন। যারা নিজেরাই নিজেদের ঘরকে শুকনো রাখতে আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

কক্সবাজারের ক্যাম্প থেকে জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি গোয়েন লুইস বলেন, বড় ধরণের অর্থসংকট এই প্রস্তুতিমূলক কাজগুলো বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করছে। রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং আশেপাশের বাংলাদেশি জনগণ একইভাবে এমন একটি এলাকায় বাস করছেন যেখানে বন্যা, ভূমিধস, ঘূর্ণিঝড় ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি সবসময় থাকে। এই দুর্যোগগুলোর জন্য প্রস্তুতি নেওয়া শুধু গুরুত্বপূর্ণ নয়, এটা জীবনরক্ষাকারী। সাধারণত মে মাসের আগেই বর্ষা প্রস্তুতি শুরু হয়, কিন্তু এ বছর অর্থের অভাবে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি।

২০২৫ সালে মানবিক সহায়তাকারী সংস্থাগুলো প্রায় ১৪.৮ লাখ মানুষকে সহায়তা করতে ৯৩.৪ কোটি মার্কিন ডলার তহবিল চেয়েছে। যার মধ্যে রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং আশেপাশের বাংলাদেশি জনগন অন্তরভুক্ত।

লুইস বলেন, বছরের মাঝপথে পৌঁছে যাওয়া সত্ত্বেও যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনা এখনও ২০ শতাংশেরও কম অর্থায়ন পেয়েছে। 

তিনি আরও বলেন, আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করব। কিন্তু এই কঠিন সময়ে আমরা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অবহেলা করতে পারি না। এই দুর্দশাগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর সহায়তার জন্য আমরা জরুরিভাবে দাতাদের উদাত্ত আহ্বান জানাই তারা যেন উদারভাবে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন।

এদিকে, গত বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া টানা বর্ষণে শিবিরে বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। রবিবার রাত ৯টার দিকে ২০ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ব্লক-৮-এ বজ্রপাতে একই পরিবারের পাঁচজন গুরুতর আহত হন। তারা হলেন— আনোয়ার বেগম (৪৭), জিয়াউর রহমান (২১), আয়েশা বিবি (১৫), সোনাউল্লাহ (২৮) ও হুসনে আরা (২৪)। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে ক্যাম্প-২০-তে এনজিও ফ্রেন্ডশিপ পরিচালিত হাসপাতালে ভর্তি করেন। বাকীদের নাম ঠিকানা পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, টানা বৃষ্টিতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। পাহাড়ের ঢালে অবস্থানরত রোহিঙ্গারা সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ক্যাম্পগুলো পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট ক্যাম্প ইনচার্জ ও সেবাদানকারী সংস্থাগুলো ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করছে। পাশাপাশি, রোহিঙ্গাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

ইত্তেফাক/এএইচপি