বুশরা বিবির কারাবন্দিত্বের জন্য সেনাপ্রধানকে দায়ী করলেন ইমরান খান

আপডেট : ০৪ জুন ২০২৫, ২০:১৯

পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ও ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান তার স্ত্রী বুশরা বিবিকে প্রতিহিংসামূলক আচরণের মাধ্যম হয়রানি করেছে বলে অভিযোগ করেছেন ইমরান খান।

তিনি বলেন,পরিকল্পিতভাবে তাঁকে, তাঁর পরিবারকে ও তার স্ত্রীকে হয়রানি করেছেন মুনির। তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার এই খেলায় পুরো পাকিস্তানকেই বন্দি করেছেন ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। 

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে ইমরান বলেন, প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে তিনি আসিম মুনিরকে আইএসআইর ডিজি পদ থেকে সরিয়ে দেন। সেই সিদ্ধান্তের পর থেকেই মুনির ব্যক্তিগত আক্রোশ পুষে রাখেন। ইমরান দাবি করেন, অপসারণের পর মুনির মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছিলেন । উদ্দেশ্য ছিল, নিজের অপসারণের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা। তবে বুশরা বিবি এই প্রস্তাব ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, এসব বিষয়ে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং তিনি মুনিরের সঙ্গে দেখা করবেন না।

ইমরান খানকে গ্রেপ্তার করার পর তার স্ত্রীকেও গ্রেপ্তার করা হয়। ছবি: সংগৃহীত

ইমরানের ভাষ্যমতে, এই প্রত্যাখ্যানই পরে রূপ নেয় প্রতিহিংসায়। বুশরা বিবিকে জেলে পাঠানো হয় ১৪ মাসের জন্য। তিনি দাবি করেন, জেলে তাঁর সঙ্গে যে অমানবিক আচরণ করা হয়েছে, তার পেছনে রয়েছেন আসিম মুনির নিজে। শুধু বুশরা নন, ইমরান খানের ভাষায়, পরিকল্পিতভাবে তিনি এবং তাঁর দলের বহু নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে সাজানো মামলা, ভয় দেখানো, হামলার অভিযোগ সবই সামরিক নেতৃত্বের ছায়া-নাটকের অংশ।

পাকিস্তানে এখন বাস্তব ক্ষমতার মালিক কে, এ নিয়ে ইমরান খান বলেন, ‘সেনাপ্রধান আসিম মুনিরই দেশের মূল নিয়ন্ত্রক। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও তাঁর মন্ত্রীসভা শুধুই নামমাত্র।’ সব সিদ্ধান্ত, সব নিয়ন্ত্রণ আসছে এক কেন্দ্রীয় ক্ষমতা থেকে, যার নেতৃত্বে রয়েছেন মুনির। এমনকি ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সফলতার পর তাঁকে ফিল্ড মার্শাল উপাধি দেওয়া এবং সামরিক প্রভাবকে আরও দৃঢ় করা, সবই এই কেন্দ্রীয় শাসনের বহিঃপ্রকাশ।

রাওয়ালপিন্ডির জেলে বসে ইমরান অভিযোগ করে বলেন, গণতন্ত্র ধ্বংস করে দুর্নীতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকেই আবার ক্ষমতায় বসানো হয়েছে। তাঁর দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে সেনা ঘাঁটিতে হামলার যে অভিযোগ, তাও মিথ্যা বলে দাবি করেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, প্রকৃতপক্ষে পিটিআই-র শান্তিপূর্ণ আন্দোলন দমন করতেই এসব সাজানো নাটক মঞ্চস্থ করা হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি হতাশা প্রকাশ করেছেন বিচারব্যবস্থার প্রতি। তাঁর ভাষায়, ‘এখানে এখন আর বিচার নেই, আছে কেবল নির্দেশ।’ আর সেই নির্দেশ আসে যেখান থেকে গণতন্ত্রকে থামিয়ে দিয়ে ক্ষমতার চাবিকাঠি একচ্ছত্র হাতে রাখা হয়েছে।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

ইত্তেফাক/টিএস