মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় গত কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে বন্যার ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় হাজার হাজার মানুষ অন্ধকারে ভোগান্তির মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। টানা বৃষ্টি ও ভারত থেকে নেমে আসা উজানি ঢলে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) উপকেন্দ্রের অভ্যন্তরে পানি বিপদসীমার উপরে থাকায় সরবরাহ বন্ধ করেছে কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার রাত ৯ টায় পিডিবি জানায়, উপকেন্দ্রের অভ্যন্তরে পানি থাকায় জননিরাপত্তার স্বার্থে লাইন চালু করা যাচ্ছে না।
টানা বৃষ্টি ও ভারত থেকে নেমে আসা উজানি ঢলে জুড়ী উপজেলার ফুলতলা রোড, মোকামবাড়ি রোড, জুড়ী-গোয়ালবাড়ী রোডের কলেজ রোড ও নয়াবাজার এলাকার কিছু অংশ পানিতে তলিয়ে গেছে। যার জন্য গাড়ী চলাচলে বিঘ্ন হচ্ছে। এছাড়াও জুড়ী- ফুলতলা সড়কের বীরগোগালী নামক স্থানে জুড়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ উপকেন্দ্রে মঙ্গলবার থেকে পানি বৃদ্ধি হওয়ায় সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।
এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, জুড়ী নদীর পানি বিপদসীমার ১৮৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।
জুড়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রের আবাসিক প্রকৌশলী কবির আহমদ বলেন, মঙ্গলবার বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রে পানি উঠে যায়। এরপর থেকে সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। পানি না কমায় আমরা বিকল্প উপায়ে কুলাউড়া থেকে লাইন চালু করেছি। ফুলতলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় উপজেলার গ্রাহক সেবা ব্যাহত হচ্ছে।
বুধবার উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে মানুষের দুর্ভোগের এ ভয়াবহ চিত্র দেখা গেছে। অনেকের বাড়ী ঘরে পানি ঢুকে যাওয়ায় শিশু বয়োবৃদ্ধ মানুষের যেমন কষ্ট হচ্ছে তেমন ছোট ছোট বাচ্চা রেখে দরিদ্র মানুষও রোজগারের জন্য বাহির হতে পারছেন না। ইতিমধ্যে উপজেলা সদর জায়ফরনগর ইউনিয়নের মনতৈল গ্রামের এক মাদ্রাসা ছাত্র সাঁতার কাটা না জানায় বানের স্রোতে মারা গেছে। অনেকেই শিশুদের নিয়ে আতংকে দিন কাটাচ্ছে। উপজেলা সদরে প্রবেশ করার বিভিন্ন রাস্তা বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে।
এছাড়া সদর জায়ফরনগর ইউনিয়নের কামিনীগঞ্জবাজার, ভোগতেরা, ভবানীপুর, বেলাগাঁও, জাঙ্গিরাই, নয়াগ্রাম, ইউসুফনগর, সোনাপুর, গবিন্দপুর, পঃজায়ফরনগর, প্রহল্লাদপুর, শাহপুর, নিশ্চিতপুর, রাজাপুর, পঃজুড়ী ইউনিয়নের খাগটেকা, কালনীগড়, সাগরনাল ইউনিয়নের বীরগোগালী, রসুলপুর, রাণীমুড়া, পাতিলাসাঙ্গন, কাপনাপাহাড়, বটনীঘাট, কাশিনগর, নয়াবাজার সহ প্রায় ২৩ টি গ্রামের অনেক বাড়ী ঘর সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্যার পানিতে নিমজ্জিত।
উপজেলা প্রশাসন এর পক্ষ থেকে দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবেলায় সার্বক্ষণিক মনিটরিং এর জন্য উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিজানুর রহমানকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। যে কোনো প্রয়োজনে জনসাধারণকে যোগাযোগ করার আহ্বান জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার বাবলু সূত্রধর।
