কোরবানিকে সুন্দর, ত্যাগের মহিমায় মহিমান্বিত করে গরিববান্ধব করে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, গরিব, স্বজন ও প্রতিবেশীরা তাদের হক যেন ঠিক ঠিক বুঝে পায়, সেদিকে আমাদের মনোযোগ দিতে হবে। তারা হক বুঝে পেলে ঈদ হয়ে উঠবে ধনী-গরিব সবার উৎসব।
শুক্রবার (৬ জুন) সন্ধ্যায় পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে এ আহ্বান জানান তিনি।
ভাষণের শুরুতে পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানিয়ে শিশু, কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণী, ছাত্র-ছাত্রী, বয়স্ক, বৃদ্ধ, নারী-পুরুষ সবাইকে সালাম জানান প্রধান উপদেষ্টা।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, প্রতি বছর এই দিনটি আমাদের সামনে হাজির হয় ত্যাগের এক মহান দৃষ্টান্ত হয়ে। আমরা যদি কোরবানির মাহাত্ম্যকে ধারণ করে লোভ, স্বার্থপরতা, হিংসা-বিদ্বেষ মুক্ত হয়ে সমাজ ও রাষ্ট্র বিনির্মাণে নিজেদের নিয়োজিত করতে না পারি, তাহলে কোরবানির ঈদ আনুষ্ঠানিকতা ছাড়া আর কিছুই নয়। আসুন, এ বছর কোরবানিকে সুন্দর, ত্যাগের মহিমায় মহিমান্বিত করে গরিববান্ধব করে তুলি।
বক্তব্যের শুরুতেই তিনি কোরবানির পশুর চামড়ার ন্যায্যমূল্য ও যথাযথ ব্যবস্থাপনা নিয়ে কথা বলেন।
এ প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, পশুর চামড়ার ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ সার্বিক বিষয়ে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সরকারের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি কাজ করছে, একটি কন্ট্রোল রুমও খোলা হয়েছে। কোরবানির চামড়া সংক্রান্ত যেকোনো সমস্যা, অভিযোগ ও পরামর্শ এই হটলাইন নম্বরে ফোন করে দেওয়া যাবে।
এবছর কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণে তার সরকার ৩০ হাজার টন লবণ বিনামূল্যে সরবরাহ করেছে বলেও জানান তিনি।
ড. ইউনূস বলেন, কোরবানির ঈদে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা। পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে সমবেতভাবে এগিয়ে আসতে দেশবাসীর প্রতি বিশেষ করে তরুণ-তরুণীদের প্রতি আকুল আহ্বান জানান তিনি।
