জামায়াত নেতার হত্যাকারীকে বহিষ্কারের প্রতিশ্রুতি রাখেনি বিএনপি: রেজাউল করিম

আপডেট : ১০ জুন ২০২৫, ১৭:৪৭

জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম অভিযোগ করেছেন, জামায়াত নেতা কাউছার আহম্মদ মিলনের হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি বিএনপি রাখেনি। তিনি বলেন, এটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড নয়, তবে সামাজিক ঘটনার সুযোগ নিয়ে একজন জামায়াত নেতাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১০ জুন) দুপুরে লক্ষ্মীপুর প্রেস ক্লাবে জেলা জামায়াতের ব্যানারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রেজাউল করিম বলেন, 'আমরা বিএনপির সঙ্গে কথা বলেছিলাম যে, যেই দোষী হোক, তাকে বহিষ্কার করা হবে। কিন্তু বিএনপি সেই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে। উল্টো বলা হচ্ছে, জামায়াত একটি স্বাভাবিক মৃত্যুকে রাজনৈতিক রূপ দিচ্ছে। অথচ কাউছারের ঘাড় ও মাথায় গুরুতর আঘাত ছিল। এভাবে কেউ স্বাভাবিকভাবে মারা যায় না।'

এই সংবাদ সম্মেলনটি গত সোমবার (৯ জুন) শহরের গোডাউন রোডে বশির ভিলা হলরুমে অনুষ্ঠিত বিএনপির প্রেস ব্রিফিংয়ের প্রতিক্রিয়ায় আয়োজন করা হয়। সেখানে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, 'কাউছারের ভাই আরজু যুবলীগের কর্মী ছিলেন এবং তিনি মাদক ও চুরির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। স্থানীয় সামাজিক অবক্ষয়ের কারণে একটি মারামারির ঘটনা ঘটে, যেখানে স্বেচ্ছাসেবক দলের একজন জড়িত ছিল। এটি পুরোপুরি সামাজিক ঘটনা, রাজনৈতিক নয়।'

এ্যানি আরও দাবি করেন, 'জামায়াত আমাদের আশ্বাস দিয়েছিল তারা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত মামলা করবে না কিংবা খুব সীমিত সংখ্যক ব্যক্তির নাম উল্লেখ করবে। কিন্তু তারা ১২ জন বিএনপি কর্মীর নাম উল্লেখ করে মামলা করেছে, যা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের শামিল।'

রেজাউল করিম বলেন, 'বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, কাউছার আগে স্ট্রোক করেছিলেন, তাই এটা স্বাভাবিক মৃত্যু। এসব বক্তব্যে জাতিকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। কাউছার যখন ছেলেকে রক্ষা করতে যান, তখনই তার ওপর হামলা হয় এবং পরে হাসপাতালে গিয়ে তাকে ভয়ভীতি দেখানো হয়। এখন তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।'

তিনি আরও বলেন, 'ঘটনার পরে আসামিরা রাজনৈতিক মিছিল করেছে, যা সামাজিক ঘটনার চেয়ে রাজনৈতিক রূপ নিয়েছে। কেউ কেউ ময়নাতদন্ত রিপোর্টের আগেই বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, যা স্পষ্টভাবে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা। আমরা চাই নিরপেক্ষ তদন্ত হোক এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও প্রশাসনের কাছে এর সঠিক বিচার প্রত্যাশা করছি।'

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির এআর হাফিজ উল্যাহ, সেক্রেটারি ফারুক হোসাইন নুরনবী, সহ-সেক্রেটারি মহসিন কবির মুরাদ, শহর জামায়াতের আমির আবুল ফারাহ নিশান ও চন্দ্রগঞ্জ থানা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল ইসলাম সুমন প্রমুখ।

লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ওসি ও জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জামায়াতের ওলামা বিভাগের স্থানীয় নেতা কাউছারের স্ত্রী শিল্পি আক্তার গত রোববার (৮ জুন) ৩২ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। মামলার আসামিদের মধ্যে অনেকে বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী। ৫ জুন দুপুরে হামলার শিকার হন কাউছার, এবং একই দিন সন্ধ্যায় তিনি মারা যান। তিনি বাঙ্গাখাঁ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের জামায়াতের ওলামা বিভাগের সভাপতি ছিলেন।

ইত্তেফাক/টিএইচ