জুলাই আন্দোলনে আহতদের সঙ্গে কর্মচারীদের সংঘর্ষের জেরে বন্ধ হওয়ার ১৭ দিন পর জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে পূর্ণাঙ্গ সেবা চালু হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল ৮টা থেকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জরুরি ও বহির্বিভাগের সেবা চালু করে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার সঙ্গে প্রয়োজনে রোগী ভর্তি রেখেও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সাধারণ রোগীরা চিকিৎসাসেবা পাচ্ছে। গতকাল ১ হাজার ৪৫৯ জন রোগী বহির্বিভাগে চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন। আর ভর্তি হয়েছে ৬৪ জন রোগী। অভ্যুত্থানে আহতদের মধ্যে চার জন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। অন্যরা ছাড়পত্র নিয়ে চলে গেছেন। এর আগে গত ৪ জুন জরুরি বিভাগ ও ১২ জুন সীমিত পরিসরে আউটডোরের সেবা চালু করে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল।
গত ২৮ মে জুলাই আন্দোলনে আহতদের সঙ্গে হাসপাতালের কর্মী, সাধারণ রোগী এবং তাদের স্বজনদের মধ্যে সংঘর্ষের পর থেকে হাসপাতালটিতে সব ধরনের চিকিৎসাসেবা বন্ধ হয়ে যায়। হাসপাতালটিতে শুধু জুলাই আহতরা অবস্থান করছিলেন। অন্তর্বর্তী সরকার তাদের জন্য বিশেষ উদ্যোগে খাবার সরবরাহ করেছে। এদিকে সংঘর্ষে অনেক ডাক্তার, নার্স ও কর্মচারীরা আহত হন। নিরাপত্তার কারণে ডাক্তার-নার্সরা কাজ বন্ধ করে দেন। পরে ৪ জুন মন্ত্রণালয়ে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের সঙ্গে বৈঠক হয়। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যারা হাসপাতালে থাকার মতো, তারা থাকবে। বোর্ড গঠন করে দিয়েছে। এই বোর্ড সিদ্ধান্ত নেবে তাদের চিকিৎসা কি পর্যায়ে আছে। হাসপাতালে থাকার প্রয়োজন আছে কিনা। বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ পর্যন্ত ৫০ জনকে ছাড়পত্র দিয়েছে। চার জন চিকিৎসাধীন আছেন। পরবর্তীতে তাদের চিকিৎসার প্রয়োজন হলে, সিএমএইচ চক্ষু বিভাগ ও বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের চক্ষু হাসপাতাল সেবা নিতে বলা হয়েছে। এছাড়া ইসলামী চক্ষু হাসপাতালে যোগাযোগ করতে বলেছে বোর্ড। এদিকে কিছু সংখ্যক ছাড়পত্র নিয়েছে, আবার কিছু সংখ্যক ছাড়পত্র ছাড়াই চলে গেছে। তবে তাদের ছাড়পত্র হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো হয়েছে। ডাক্তার-নার্সরা নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে তারা কর্মস্থলে যাবে—এমন ঘোষণাই দেওয়া হয়েছিল। তাই গতকাল পুলিশ, রেব ও সেনাবাহিনী হাসপাতালে টহল দেয়। গতকাল কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালটি ২৫০ বেডের বিশেষায়িত চক্ষু হাসপাতাল। এখানে আছে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি, যা অন্য কোথাও নেই। সারা দেশ থেকে জটিল চক্ষু রোগীদের এখানে রেফার করা হয়। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে জটিল রোগের অপারেশন করা হয়। গড়ে দৈনিক অর্ধ শতাধিক অপারেশন হয়। গত ১৭ দিন হাসপাতালের মেইন গেটে তালা লাগানো ছিল। গন্ডগোলের কারণে হাজার হাজার রোগী সুচিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তবে গতকাল রোগীরা নিরাপত্তা দেখে খুঁশি।
পুলিশ, রেব ও সেনাবাহিনীর উপস্থিতি দেখে চিকিৎসক-নার্সদের পাশাপাশি রোগীদের আস্থা ফিরে এসেছে। তারা পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনীকে ধন্যবাদ জানিয়েছে। গতকাল রোগীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই একটা ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বিচার হতে হবে। হাসপাতাল বন্ধ রাখা উচিত হয়নি।
জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের ডাক্তাররা বলেন, এখন থেকে পুরোদমে অপারেশন ও চিকিৎসা চলবে। তবে নিরাপত্তা যেন নিশ্চিত করা হয়। হাসপাতাল ভাঙচুর করা, রোগীদের জিম্মি করা ঠিক না। যুদ্ধের সময়ও এমনটা হয় না। এতদিন রোগীরা সুচিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হয়েছে, এটা দুঃখজনক। কর্মরত একজন চিকিৎসক বলেন, আমরা সকাল থেকে রোগীদের সেবা দেওয়া শুরু করেছি জরুরি ও বহির্বিভাগে পূর্ণাঙ্গ সেবা পাচ্ছেন রোগীরা। প্রয়োজনে ভর্তি ও অস্ত্রোপচার করা হচ্ছে।
