ত্রাণ নিতে যাওয়া ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি গুলিবর্ষণ চলছেই

আপডেট : ২৪ জুন ২০২৫, ১০:১৯

ইসরায়েলের টানা হামলায় গাজা উপত্যকায় সোমবার (২৩ জুন) ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নতুন করে অন্তত ৪৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এ তথ্য জানায় স্থানীয় চিকিৎসা সূত্রের বরাতে। এতে চলমান যুদ্ধের শুরু থেকে গাজায় মোট মৃতের সংখ্যা ৫৬ হাজার ছাড়িয়েছে।

সোমবারের নিহতদের মধ্যে অন্তত ২০ জন ছিলেন যারা পরিবারের জন্য ত্রাণের খাবার আনতে গিয়ে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে প্রাণ হারান। এই হতাহতের ঘটনা ঘটে বিতর্কিত গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ)-এর খাদ্য বিতরণকেন্দ্রে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সমর্থিত এই সংস্থার বিরুদ্ধে ত্রাণকে ‘অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার’ করার অভিযোগ আগেই এনেছে জাতিসংঘ।

ক্ষুধার্ত মানুষ খাবারের আশায় জীবন ঝুঁকি নিয়ে এসব বিতরণকেন্দ্রে ভিড় করছেন। সমালোচকরা এসব স্থানকে ‘মানব কসাইখানা’ আখ্যা দিয়েছেন। গেল ২৭ মে থেকে জিএইচএফ ত্রাণ বিতরণ শুরু করার পর থেকে এসব কেন্দ্রে ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিহত ও প্রায় ১ হাজার জন আহত হয়েছেন।

গাজা শহর থেকে আল-জাজিরার প্রতিবেদক হানি মাহমুদ জানান, ইসরায়েল একদিকে ইরানের সঙ্গে লড়াই করছে, অন্যদিকে পুরো গাজায় অব্যাহত বিমান হামলা চালাচ্ছে। এসব হামলার লক্ষ্য কখনো ত্রিপলের তাঁবু, কখনো বাসাবাড়ি।

তিনি আরও জানান, ‘রাফা ও নেতজারিম করিডরের বিভিন্ন ত্রাণকেন্দ্রে মানুষ জড়ো হচ্ছে। সেখানে সোমবার পর্যন্ত ১৩ জনকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। সব মিলিয়ে এদিন ৩০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন।’

ফিলিস্তিনের ওয়াফা সংবাদ সংস্থা জানায়, উত্তর গাজার জাবালিয়া এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। বেইত লাহিয়া এলাকার আল-সালাতিন অঞ্চলে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি দেখতে গিয়ে তিন ভাই ইসরায়েলি গুলিতে নিহত হন।

মধ্য গাজার নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরের আল-আউদা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, সালাহউদ্দিন সড়কে হামলায় নিহত দুই জনের মরদেহ হাসপাতালে আনা হয়েছে। আহত অবস্থায় ৩৫ জনকে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ১৬ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের দ্রুত অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

এছাড়া, পূর্ব গাজার শুজাইয়া এলাকাতেও ইসরায়েলি গোলাবর্ষণের খবর পাওয়া গেছে। সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০ মাস ধরে চলা এই যুদ্ধে গাজায় আহত হয়েছেন ১ লাখ ৩১ হাজার ৫৫৯ জনের বেশি মানুষ।

ইত্তেফাক/এনএন