মোদি বন্দনায় শশী থারুর, কংগ্রেসে চাপা উত্তাপ

আপডেট : ২৫ জুন ২০২৫, ১৩:৪৬

কংগ্রেস নেতা শশী থারুরের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ঘিরে ফের শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। তিনি নিজে থেকে দল ছাড়বেন, না দলই তাকে বহিষ্কার করবে—এ প্রশ্ন নিয়েই তোলপাড় কংগ্রেস অন্দরে। সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রশংসা করে এই বিতর্কে ঘি ঢেলেছেন থারুর নিজেই।

কেরালার নিলাম্বুর উপনির্বাচনে কংগ্রেসের জয় হওয়ার দিনেই সর্বভারতীয় ইংরেজি দৈনিক দ্য হিন্দু-তে প্রকাশিত এক নিবন্ধে মোদির নেতৃত্ব, উদ্যম এবং কূটনৈতিক তৎপরতার প্রশংসা করেন শশী থারুর। তিনি লেখেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সক্রিয়তা ও নেতৃত্ব বৈশ্বিক মঞ্চে ভারতের সম্পদ। তিনি আরও বেশি সমর্থনের যোগ্য।’

এই মন্তব্য ঘিরেই ফের কংগ্রেসে ক্ষোভ। কারণ, তার কয়েকদিন আগেই একই পত্রিকায় সোনিয়া গান্ধী গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ভারতের ‘নীরবতা’ এবং মোদি সরকারের পররাষ্ট্রনীতির তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। সেই প্রেক্ষাপটেই থারুরের নিবন্ধকে কংগ্রেস নেতৃত্ব দেখছেন সুরবিচ্যুতি হিসেবে।

বিতর্কের উত্তাপ বাড়তে থাকলে থারুর নিজেই মুখ খোলেন। গতকাল তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর গুণের প্রশংসা করলেই বিজেপিতে যাওয়ার মানে হয় না।’ তিনি জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ পররাষ্ট্রনীতির পক্ষে যুক্তি দেন। যদিও কংগ্রেস মনে করে, দলীয় শৃঙ্খলা ভেঙে বারবার মোদি সরকারের প্রশংসা করে তিনি কার্যত দল ছাড়ার মঞ্চ প্রস্তুত করছেন।

উপনির্বাচনে গুরুত্ব পাননি থারুর
নিলাম্বুর উপনির্বাচনের আগে দেশে ফিরলেও থারুরকে প্রচারে যেতে দেয়নি কেরালার কংগ্রেস। রাজ্য নেতৃত্ব তাকে উপেক্ষা করে বুঝিয়ে দিয়েছে—তার ওজন কম। স্থানীয় নেতৃত্ব কেন্দ্রীয় কমিটিকে বোঝাতে চেয়েছে, থারুর ছাড়া কংগ্রেসের জয়ের পথ উন্মুক্ত।

থারুরকে দলে রাখবে, না ছেঁটে ফেলবে কংগ্রেস?
শশী থারুর কখনোই গান্ধী পরিবারের অন্ধ অনুগত ছিলেন না। তিনি ছিলেন ২৩ জন বিদ্রোহী নেতার একজন, যাঁরা ২০২১ সালে কংগ্রেসের সংস্কারের দাবি তোলেন। পরে সভাপতি পদে মল্লিকার্জুন খাড়গের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও করেন। কংগ্রেস তাকে বহিষ্কার না করলেও দলের একাংশ মনে করে, থারুর নিজেই এমন অবস্থান নিচ্ছেন যাতে দল তাকে ত্যাগ করে। সেক্ষেত্রে বিজেপিতে যোগদানে তার পক্ষে নৈতিক সমর্থনের পুঁজি তৈরি হয়।

বিজেপি কি তাকে চাইছে?
কেরালায় বিজেপির সাংগঠনিক ভিত্তি দুর্বল। থারুরের মতো একজন আন্তর্জাতিকমুখী, বুদ্ধিজীবী রাজনীতিককে দলে টেনে বিজেপি চাইতে পারে কংগ্রেসকে কৌশলগত ধাক্কা দিতে। প্রধানমন্ত্রী মোদিরও এ ধরনের ‘অপূর্ব চমক’ পছন্দ। যেমন—এস জয়শঙ্কর বা অশ্বিনী বৈষ্ণোর মতো প্রযুক্তিনির্ভর, তুলনামূলকভাবে কম পরিচিত মুখদের বড় দায়িত্বে আনা হয়েছে।

শেষ পর্যন্ত কী করবেন থারুর?
এটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন। কংগ্রেস তাকে একঘরে করে রাখবে, নাকি দলে থেকে তিনি আরও স্পষ্ট অবস্থান নেবেন—তা সময়ই বলবে। তবে বিজেপিতে তার যাওয়া হলে তা হবে সাংস্কৃতিক বিভাজনেরও বড় সংকেত। কারণ, এখনো পর্যন্ত শশী থারুর নিজেকে ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতির প্রবক্তা বলেই তুলে ধরেন।

ইত্তেফাক/এনএন