নূর ইসলাম সিকদার ওরফে কে এম নূর ইসলাম সিকদার (৫৮), নিজেকে পরিচয় দেন ‘বাংলাদেশ মুক্তি ঐক্যদল’ নামের একটি রাজনৈতিক দলের সভাপতি হিসেবে। দলটির নিবন্ধনের জন্য নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেছেন। আবেদনপত্রে দলটির ঠিকানা দেওয়া হয়েছে ফরিদপুরের বোয়ালমারী রহমানিয়া সুপার মার্কেট।
নূর ইসলাম বোয়ালমারী পৌরসভার এক নম্বর ওয়ার্ডের গুণবাহা মহল্লার বাসিন্দা ও আবদুল জব্বার সিকদারের ছেলে। তিনি পেশায় ব্যবসায়ী; তবে নিজেকে রাজনীতিবিদ পরিচয় দেন। তিনি এক ছেলের বাবা। তার প্রথম স্ত্রী মারা গেছেন। ছেড়ে চলে গেছেন আরেক স্ত্রী। তার ইচ্ছা, দলের প্রার্থী হয়ে আগামী জাতীয় নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেই আবার বিয়ে করবেন।
বাংলাদেশ মুক্তি ঐক্যদল ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে বলে দাবি করে নূর ইসলাম বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকার তার দলের নিবন্ধন দেয়নি। এ জন্য ১৭ এপ্রিল দলটির নিবন্ধনের জন্য আবার আবেদন করেছেন।
নূর ইসলাম দাবি করেন, দলটির কেন্দ্রীয় কমিটি ২০০ সদস্যবিশিষ্ট। তাদের মধ্যে সাধারণ সম্পাদক আবদুস সালম রাজধানীর শেওড়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা। ঢাকায় তাদের কোনো দলীয় কার্যালয় নেই। তবে অচিরেই রাজধানীর বিজয় সরণিতে একটি দলীয় কার্যালয় বানাতে চান।
আয়ের উৎস সম্পর্কে জানতে চাইলে নূর ইসলাম বলেন, তিনি একজন অবসরপ্রাপ্ত বিডিআর সদস্য (ওয়ারেন্ট অফিসার)। মাসে ৯ হাজার টাকা ভাতা পান। বাবার জমিতে কলাবাগান আছে; পাশাপাশি কাঠপট্টিতে তার এক শতাংশ শেয়ার রয়েছে। এ ছাড়া নানা ধরনের ব্যবসাও করেন।
২০২৪ সালে ফরিদপুর–১ আসনে একতারা প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছিলেন নূর ইসলাম। তিনি বলেন, ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ তার বিজয় ছিনিয়ে নিয়েছিল। আগামী সংসদ নির্বাচন সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমি বিএনপির সঙ্গে জোট করব। আমার দল অন্তত পাঁচ থেকে ছয়টি আসন পাবে।’
এলাকার পরিচিতজনদের কেউ কেউ তাকে ‘এমপি সাহেব’ বলে সম্বোধন করেন। তখন নূর ইসলাম বলে উঠলেন, ‘আমি যে এই এলাকার এমপি, তা সবাই জানে। দেখেন, আমার কত সমর্থক।’
