রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অনিয়ম

দায়িত্ব ফেলে ট্রলি পরিচালনায় ব্যস্ত দৈনিক মজুরীভিত্তিক কর্মচারীরা

আপডেট : ২৬ জুন ২০২৫, ১৭:১১

নিজের কাজ ফেলে রোগীদের ট্রলি ঠেলে বেড়ায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের দৈনিক মজুরীভিত্তিক কর্মচারীরা। বিনিময়ে এসব কর্মচারীরা রোগীর স্বজনদের থেকে অবৈধভাবে টাকা আদায় করেন। এদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও তাদের মজুরি দেয়।

হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, দৈনিক মজুরীভিত্তিক কর্মচারীরা মূলত হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা, মালি ও অন্যান্য দাপ্তরিক কাজে সহায়তা করার কথা। 

তবে নির্ধারিত ট্রলি ম্যান থাকলেও বাড়তি টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে নিজের কাজ ফেলে তারা হয়ে যান ট্রলি ম্যান। এতে সরকারি সেবা নিতে আসা রোগীর স্বজনদের গুণতে হয় বাড়তি টাকা।

বুধবার (২৫ জুন) দুপুরে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) রাজশাহীর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের একটি দল এনফোর্সমেন্ট অভিযানে এই চিত্র উদঘাটন করেছে। এছাড়া রোগী ও লাশবাহী বেসরকারি গাড়ির চালকদের অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়টিও দুদকের অভিযানিক দলের নজরে এসেছে। এসব বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দুদকের কর্মকর্তারা।

রামেক হাসপাতালের আউটডোর ডিসপেনসারির ফার্মাসিস্ট ইনচার্জ রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে পাওয়া লিখিত অভিযোগের বিষয়ে দুদক একটি এনফোর্সমেন্ট টিম গঠন করে। অভিযোগে বলা হয়, রফিকুল ইসলামের শর্ট-স্লিপে সকল প্রকার ওষুধের গড়মিল রয়েছে। ওষুধের খরচের সঙ্গে স্লিপের মিল না পাওয়ার তথ্য উঠে এসেছে। এছাড়া প্রধান স্টোরের ফার্মাসিস্ট মীর শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধেও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যায়।

অভিযোগ যাচাইয়ে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আমির হোসাইনকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি টিম গঠন করে দেওয়া হয়। টিমের সদস্যরা বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত হাসপাতালে অভিযান চালায়। তারা বেশকিছু নথিপত্রও সংগ্রহ করেন। 

অভিযান শেষে দুদকের সহকারী পরিচালক বলেন, ‘অভিযানে আমরা স্টোর রুমের খাতা দেখেছি। রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করে কমিশন বরাবর প্রতিবেদন দেওয়া হবে।’

অনিয়মের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মচারীরা ট্রলি পরিচালনা করে। তাদের দৌরাত্ম লক্ষণীয়। এছাড়া হাসপাতালের রোগী ও লাশবাহী বেসরকারি গাড়ির অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পেয়েছি। এই দুই ক্ষেত্রে অনিয়মের প্রতিবেদন দাখিল ও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

রামেক হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. হাসানুল হাসিব দুদকের অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, দুদকের পরামর্শ অনুযায়ী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/এমএম/এএইচপি