কয়েকটি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছিলেন মইনুল ইসলাম (৫৫) নামে এক ব্যবসায়ী। এ ছাড়া স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ীও তার কাছে টাকা পাবেন। হঠাৎ তিনি পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন, ব্যাংক থেকে টাকা তুলে ফেরার পথে তার কাছ থেকে ছিনতাই হয়েছে ৩৪ লাখ টাকা।
অভিযোগ পেয়ে তদন্তে নামে পুলিশ। বেরিয়ে আসে ছিনতাই নয়, ঋণ মওকুফসহ খানিকটা সহানুভূতি পেতে ছিনতাইয়ের মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছিলেন তিনি।
বুধবার (২৪ জুন) দিনাজপুরের বিরল উপজেলায় ঘটেছে এ ঘটনা। ছিনতাইয়ের অভিযোগকারী মইনুল ইসলাম উপজেলার ভান্ডারা ইউনিয়নের গোপালপুর বড়গ্রাম এলাকার মৃত খোরশেদ আলীর ছেলে। সার, বীজ, কীটনাশকসহ মজুতদারি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত আছেন তিনি।
বুধবার রাত সাড়ে ১১টায় পুলিশ তার বাসা থেকে ১১ লাখ টাকা উদ্ধার করে তাকে থানা হেফাজতে নিয়ে আসে। এসময় নিজের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চান ঋণগ্রস্ত ওই ব্যবসায়ী।
মইনুল ইসলামের বরাতে পুলিশ জানায়, বুধবার দুপুর ১২টায় বিরল উপজেলায় বেসরকারি একটি ব্যাংক থেকে ৮ লাখ টাকা উত্তোলন করেছিলেন তিনি। টাকা তুলে বাড়িতে এসে কীটনাশকের কার্টুনে রেখে মোটরসাইকেল নিয়ে বের হন। পরে মুরাদপুর নামক এলাকায় রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে টাকা ছিনতাই করে নিয়ে গেল বলে চিৎকার করতে থাকেন। এ সময় স্থানীয় লোকজন জড়ো হন সেখানে।
এসময় পুলিশের কাছে মইনুল ইসলাম বলেন, তিনি বেসরকারি একটি ব্যাংক থেকে আট লাখ টাকা তুলেছিলেন। হাতে থাকা আরও ২৬ লাখ টাকাসহ মোট ৩৪ লাখ টাকা একটি সরকারি ব্যাংকে জমা দিতে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে ছয়জন ছিনতাইকারীর কবলে পড়েন তিনি। মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে ছিনতাইকারীরা তার কাছ থেকে সেই টাকা ছিনতাই করে পালিয়ে গেছেন।
এরপর বেলা তিনটায় পুলিশ মইনুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে শহরের কাছে সব ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে পর্যালোচনা করেন। একটি ফুটেজে দেখা মেলে মইনুলের। মোটরসাইকেলের হ্যান্ডেলে ছোট একটি খালি ব্যাগ ঝোলানো ছিল। এতে সন্দেহ হয় পুলিশের, মইনুলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। রাত ৯টায় পুলিশের কাছে ছিনতাইয়ের নাটক সাজানোর কথা স্বীকার করেন মইনুল। এরপর পুলিশ তার বাড়ি থেকে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী গুদাম ঘরে রাখা কীটনাশকের কার্টুন থেকে ব্যাংক থেকে তোলা ৮ লাখ টাকাসহ ১১ লাখ টাকা উদ্ধার করে।
একই সঙ্গে ছিনতাইয়ের অভিযোগ করা তার ব্যবহৃত মুঠোফোনটিও বাড়ি থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
দিনাজপুর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) আনোয়ার হোসেন বলেন, মূলত ঋণ মওকুফের আশায় মইনুল ইসলাম নাটক সাজিয়েছিলেন। তিনি তার অপরাধ স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছেন। সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে পুলিশ তাকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিছু প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে স্বজনদের হাতে তুলে দেওয়া হবে।
