রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা নিয়ে বাড়ি ফিরছেন অকল্যান্ডের খেলোয়াড়রা

আপডেট : ২৬ জুন ২০২৫, ১৭:৩৫

ক্লাব বিশ্বকাপের নিজেদের প্রথম ম্যাচে আলোচনার জন্ম দিয়েছিল নিউজিল্যান্ডের ক্লাব অকল্যান্ড সিটি। তবে সেই আলোচনা ইতিবাচক ছিল না, বরং ছিল নেতিবাচক। বায়ার্ন মিউনিখের কাছে ১০ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারের পর দলটি ক্লাব বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে কীভাবে এলো, তা নিয়ে হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। অনেকেও ক্লাব বিশ্বকাপের মান নিয়েও তুলেছিলেন প্রশ্ন।

তবে ফুটবলে যে সবকিছু সম্ভব সেটাই এবার প্রমাণ করলেন অকল্যান্ড সিটির পার্টটাইম ফুটবলাররা। প্রথম দুই ম্যাচ হেরে আগেই দলটি বিদায় নিয়েছিল টুর্নামেন্ট থেকে। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে আর্জেন্টাইন ক্লাব বোকা জুনিয়র্সের বিপক্ষে ম্যাচটি তাদের জন্য ছিল কেবল নিয়ম রক্ষার। তবে বোকা জুনিয়র্সের জন্য ম্যাচটি ছিল মহা গুরুত্বপূর্ণ। রাউন্ড ষোলোতে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে হলে ম্যাচটিতে জয়ের বিকল্প ছিল না আর্জেন্টাইন ক্লাবটির সামনে। 

এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে খেই হারালো বোকা জুনিয়র্স। মাঠ ছাড়ে ১-১ গোলের ড্র নিয়ে। ফলে দুই পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ 'সি'-এর টেবিলে তিন নম্বর থেকে বাড়ি পথে দলটি। তাতে আবারো আলোচনায় অকল্যান্ড সিটি। প্রথম ম্যাচে বায়ার্নের কাছে বড় হারের পর যারা সমালোচনা করেছিল, তারাই এখন দিচ্ছে বাহবা। যদিও শুরুতে আত্মঘাতী গোলে পিছিয়ে পড়েছিল অকল্যান্ড। তা না হলে ম্যাচের ফলাফলটা ভিন্নও হতে পারত।

শিষ্যদের এমন অর্জনে খুশি অকল্যান্ড বস পল পোসা। ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এসে আবেগে ভাসেন তিনি। বলেন, 'আমরা বিশাল হৃদয়ের একটি ছোট ক্লাব।' তার এমন কথার অর্থ-তার দলের খেলোয়াড়রা ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা থেকে এত দূর এসেছে। দলটিতে নেই কোনো পেশাদার ফুটবলার, সবাই পার্টটাইম ফুটবলার। বায়ার্নের বিপক্ষে হারের পর অকল্যান্ডের গোলরক্ষক কনর ট্রেসি জানিয়েছেন, ক্লাব বিশ্বকাপে খেলতে তাকে অফিস থেকে বেতনবিহীন ছুটি নিতে হয়েছে। যার কারণে তার বাড়ি ভাড়াও পরিশোধ করতে তাকে হিমশিম খেতে হবে। 

তবে বড় মঞ্চে বড় বড় ক্লাবগুলোর বিপক্ষে খেলার সুযোগ হাতছাড়া করতে চাননি তিনি। যদিও সর্বশেষ দুই ম্যাচে গোলবারের নিচে ছিলেন না তিনি। এছাড়াও দলটির একজন ফুটবলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। সেই সঙ্গে একজন বিমাকর্মী, একজন নরসুন্দর, একজন একটি কোমলপানীয় কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি, একজন গাড়ি বিক্রেতা এবং বেশ কয়েকজন ছাত্র। টুর্নামেন্টে শিরোপার জন্য নয়; বরং রোমাঞ্চ অভিজ্ঞা এবং বড় বড় তারকাদের সঙ্গে খেলার স্বপ্ন নিয়ে মার্কিন মুল্লুকে এসেছিলেন দলটির ফুটবলাররা। এবার এক বুক গর্ব এবং কিছু দুর্দান্ত স্মৃতি নিয়ে বাড়ি ফিরলেন অকল্যান্ডের ফুটবলাররা। 

এমন ফুটবলারদের নিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার অন্যতম শক্তিশালী ক্লাব বোকা জুনিয়র্সের সঙ্গে ড্র নিয়ে অকল্যান্ড বস বলেন, 'আমরা যেই প্রতিকূলতার মুখোমুখি রয়েছি, তা বোঝানো যাবে না। আপনি বলতে পারবেন না যে আমরা টুর্নামেন্টের অভিজ্ঞতা থেকে শিখিনি। আমি খেলোয়াড় এবং ক্লাবের জন্য রোমাঞ্চিত। এমন অর্জন নিয়ে বাড়ি যাওয়া অনেক গর্বের।'

অন্যদিকে ম্যাচের একমাত্র গোল করেন ডিফেন্ডার ক্রিশ্চিয়ান গ্রে। দলের এমন অর্জনে গর্বিত তিনি। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, 'আমি ছোট একটি শহর থেকে এসেছি, যা এখান থেকে অনেক দূরে এবং এই পরিবেশ থেকে অনেক আলাদা। তাই এসব আমার কাছে কিছুটা স্বপ্নের মতো। আমি দীর্ঘ চার বছরের প্রস্তুতির পর এখানে এসেছি।'

ইত্তেফাক/জেডএইচ