প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনের জিনজিরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকটে কোমলমতি ছাত্রছাত্রীরা নিয়মিত পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। কোরবানি ঈদের ছুটি শেষে স্কুল খোলা হলেও বৈরি আবহাওয়া ও সাগর উত্তাল থাকার কারণে পৌঁছাতে পারেননি শিক্ষকরা। এতে দ্বীপ এলাকার একমাত্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টির পাঠদান বন্ধ হয়ে পড়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দীর্ঘ দিন ধরেই শিক্ষক সংকটে নাজুক অবস্থা স্কুলটির। তিনজন শিক্ষক দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চললেও বর্তমানে বিদ্যালয়ে দপ্তরি ছাড়া কোনো শিক্ষকদের দেখা মিলছেনা। বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকসহ ৭জন শিক্ষকের পদ থাকলেও তিনজন শিক্ষক দিয়ে চলছে পাঠদান কার্যক্রম। প্রধান শিক্ষক না থাকায় একজন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক, একজন সহকারী শিক্ষক ও একজন প্যারা শিক্ষক (সংকট মোকাবেলায় স্থানীয়ভাবে নিয়োগ করা শিক্ষক) রয়েছেন।
বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২০২ জন। সেখানে এক থেকে দেড়শ জন শিক্ষার্থী নিয়মিত উপস্থিত থাকেন। এই পরিস্থিতির মধ্যেই সেখানে কর্মরত তিন শিক্ষকের মধ্যে দুজনের বাড়ি টেকনাফে। তারা দুজন ঈদের ছুটিতে বাড়ি এসেছিলেন। তবে ছুটি শেষে সাগর উত্তাল থাকার কারণে তারা সেন্টমার্টিন যেতে পারছে না। তাছাড়া শারীরিক অসুস্থতার কারণে ছুটিতে আছেন প্যারা শিক্ষক।
শিক্ষক না থাকায় বন্ধ হয়ে পড়েছে স্কুলের পাঠদান।
জিনজিরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) আবু তাহের বলেন, ঈদের ছুটি কাটিয়ে বাড়ি থেকে সেন্টমার্টিনে যেতে পারছি না। আমার বাড়ি যেহেতু টেকনাফে সাগর উত্তাল ও আবহাওয়া পরিস্থিতি খারাপ এই কারণে সেন্টমার্টিন নৌপথে ট্রলার চলাচল বন্ধ। তাই বিদ্যালয়ে যেতে পারছি না।
তিনি আরও বলেন, জিনজিরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকসহ ৭জন শিক্ষকের পদ রয়েছে। তবে আমি (ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক) ও একজন সহকারী শিক্ষক দিয়ে পাঠদান করতে হচ্ছে। সংকট মোকাবেলায় আরেকজন প্যারা শিক্ষক রয়েছেন।
এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান আরজু বলেন, ঈদের ছুটির পরে গত ২৪ জুন স্কুল খুলছে। বিদ্যালয়ে প্যারা শিক্ষক ছাড়া বাকি দুজনের বাড়ি টেকনাফে। তবে ছুটি শেষে আবহাওয়া পরিস্থিতি খারাপ থাকায় টেকনাফ থেকে তারা সেন্টমার্টিন যেতে পারছে না।
তিনি আরও বলেন, সেন্টমার্টিনে সাগর পথে যেতে হয়। সেক্ষেত্রে জিনজিরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হলেও নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকরা সেন্টমার্টিনে যেতে চাই না। ওই বিদ্যালয়ে শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগের চেষ্টা চলছে।
