জাপানে ‘টুইটার কিলার’ নামে পরিচিত সিরিয়াল কিলার তাকাহিরো শিরাইশির মৃত্যুদণ্ড শুক্রবার (২৭ জুন) কার্যকর করা হয়েছে। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ও আত্মহত্যাপ্রবণ তরুণদের সহানুভূতির নামে ফাঁদে ফেলে নির্মমভাবে হত্যা করতেন তিনি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এই তথ্য জানিয়েছে।
শিরাইশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার) ব্যবহার করে নিজের শিকার বেছে নিতেন। তার প্রোফাইলে লেখা ছিল, 'যারা কষ্টে আছেন, আমি তাদের সাহায্য করতে চাই। চাইলে সরাসরি মেসেজ করুন।' এই কথার ফাঁদে পড়ে একের পর এক তরুণী তার সঙ্গে যোগাযোগ করতেন।
প্রতারণার মাধ্যমে তাদের আস্থায় নিয়ে শিরাইশি নিজের অ্যাপার্টমেন্টে ডেকে এনে হত্যা করতেন। নিহতদের মধ্যে বেশিরভাগই ১৫ থেকে ২৬ বছর বয়সী নারী। ২০১৭ সালে এক তরুণীর নিখোঁজ হওয়ার পর তার দেহাবশেষ উদ্ধারের মাধ্যমে এই ভয়াবহ অপরাধের সূত্রপাত ঘটে।
তদন্তে বেরিয়ে আসে, ওই তরুণীসহ নয়জনকে খুন করেছেন শিরাইশি। পরে আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে সে নিজেই এই হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে। শিরাইশির দাবি ছিল, তার সব শিকার আত্মহত্যাপ্রবণ ছিলেন এবং তাদের ‘মুক্তি দেওয়ার’ জন্যই তিনি তাদের হত্যা করেছেন। যদিও আদালত তার এ দাবি নাকচ করে অপরাধকে পূর্বপরিকল্পিত ও পৈশাচিক বলে অভিহিত করে।
ঘটনার পরপরই জাপানসহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে তাকাহিরো শিরাইশি ‘টুইটার কিলার’ নামে পরিচিতি পান। তার বিরুদ্ধে জনমনে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয় এবং বিচারপ্রক্রিয়ার শেষে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়, যা আজ কার্যকর করা হয়েছে।
এই ঘটনা জাপানে অনলাইন নিরাপত্তা ও মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা সংক্রান্ত নীতিতে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে এমন অপরাধ কতটা সহজ হয়ে পড়ছে, তা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন।
