ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটিতে ফিলিস্তিনিদের পক্ষে বিক্ষোভের পর ৪ জনকে গ্রেপ্তার

আপডেট : ২৭ জুন ২০২৫, ১৯:৪৮

সামরিক ঘাঁটিতে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে যুক্তরাজ্যের পুলিশ। কর্তৃপক্ষের দাবি, গত সপ্তাহে প্যালেস্টাইন অ্যাকশন গ্রুপ আয়োজিত এই বিক্ষোভের সময় সামরিক বিমান ভাঙচুর করা হয়েছিল।

আল জাজিরা জানিয়েছে, প্যালেস্টাইন অ্যাকশন গ্রুপের দুই কর্মী গত ২০ জুন অক্সফোর্ডশায়ারের ব্রিজ নর্টনে অবস্থিত রয়্যাল এয়ার ফোর্স ঘাঁটিতে প্রবেশ করে। তারা জ্বালানি ভরার এবং পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত দুটি বিমানে লাল রঙ দিয়ে স্প্রে করে।

কাউন্টার টেরোরিজম পুলিশিং সাউথ ইস্ট (CTPSE)-এর এক বিবৃতি অনুসারে, শুক্রবার ২৯ বছর বয়সী এক নারী এবং ৩৬ ও ২৪ বছর বয়সী দুই পুরুষকে 'সন্ত্রাসবাদ' কার্যকলাপের প্রস্তুতি বা প্ররোচনার সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদিকে ৪১ বছর বয়সী আরেক নারীকে একজন 'বিক্ষোভকারীকে' সহায়তা করার সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

প্যালেস্টাইন অ্যাকশন এসব গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ জানিয়ে ব্রিটিশ সরকারের নিন্দা করেছে। তারা জানায়, এটি কর্তৃপক্ষের 'ফিলিস্তিনে গণহত্যার সময় ইসরায়েলের কাছে অস্ত্র সরবরাহ ব্যাহতকারী অহিংস বিক্ষোভের ওপর দমন-পীড়নের' অংশ।

গত শুক্রবার ফিলিস্তিনপন্থী গ্রুপটির পোস্ট করা অনলাইনে ফুটেজে দেখা গেছে, সামরিক ঘাঁটির ভেতরে লোকজন জড়ো হয়ে আছেন। একজন ব্যক্তি একটি বৈদ্যুতিক স্কুটারে করে একটি এয়ার-টু-এয়ার রিফুয়েলিং ট্যাঙ্কারের দিকে যাচ্ছেন এবং সেটিতে রঙ স্প্রে করছেন।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কায়ার স্টারমার এই ঘটনাকে 'লজ্জাজনক' বলে নিন্দা জানান। এই ঘটনার পর দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার 'প্যালেস্টাইন অ্যাকশন গ্রুপ'কে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেন।

তবে গ্রুপটির একজন মুখপাত্র বলেছেন, 'প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে নিষিদ্ধ করা ইসরায়েলপন্থী গোষ্ঠী এবং অস্ত্র কোম্পানিগুলোকে সন্তুষ্ট করার জন্য একটি রাজনৈতিক পদক্ষেপ, যারা আমাদের নিষিদ্ধ করার জন্য লবিং করছে। কারণ আমরা তাদের লাভের ক্ষতি করছি এবং ইসরায়েলের যুদ্ধযন্ত্রের ওপর প্রকৃত প্রভাব ফেলছি।'

প্যালেস্টাইন অ্যাকশন বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করেছে। যার মধ্যে রয়েছে - লন্ডনে অ্যালিয়ানজ ইন্স্যুরেন্সের অফিসে লাল রঙ ছিটিয়ে দেওয়া এবং দক্ষিণ স্কটল্যান্ডের সাউথ আয়ারশায়ারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের টার্নবেরি গল্ফ কোর্স ভাঙচুর করা।

ইত্তেফাক/এসকে