জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) চলমান অচলাবস্থা নিরসনে অর্থ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) অনুষ্ঠিত ওই সভায় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে:
১. এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের ঘোষিত ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ও ‘মার্চ টু এনবিআর’ কর্মসূচি প্রত্যাহার,
২. এনবিআরের দুজন কর্মকর্তার সাম্প্রতিক বদলি আদেশ পুনর্বিবেচনা,
৩. আগামী মঙ্গলবার (১ জুলাই) বিকেল ৪টায় তিন পক্ষের আলোচনা সভার আয়োজন।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ, অর্থসচিব খায়েরুজ্জামান মজুমদার, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক, এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান এবং এনবিআরের ১৬ জন সদস্য।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে এনবিআরের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিজ নিজ দপ্তরে ফিরে গিয়ে কাজে মনোনিবেশ করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আগামী মঙ্গলবারের বৈঠকে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ, রাজস্ব বোর্ড সংস্কারবিষয়ক পরামর্শক কমিটি এবং এনবিআরের সদস্যরা অংশ নেবেন। সেখানে রাজস্বনীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর প্রয়োজনীয় সংশোধন নিয়ে আলোচনা হবে। সরকার আশা করছে, ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সংশোধন সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
উল্লেখ্য, এনবিআর ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ বিলুপ্ত করে সরকার নতুন দুটি বিভাগ—রাজস্বনীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ—গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়। ১২ মে এ বিষয়ে অধ্যাদেশ জারি করা হয়। মূল উদ্দেশ্য ছিল করনীতি নির্ধারণ এবং কর আদায় কার্যক্রম পৃথক করা। এটি আইএমএফ-এর ঋণের একটি শর্ত হিসেবে উত্থাপিত হয়।
এনবিআরের কর্মকর্তারা বিভাগ বিভাজনের বিরোধিতা না করলেও নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজস্ব ক্যাডারের কর্মকর্তাদের অগ্রাধিকার চাচ্ছেন। সরকারের পক্ষ থেকে উপযুক্তদের নিয়োগ দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে, যেখানে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারাও অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন।
এনবিআর চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবি করেছেন আন্দোলনরত কর্মকর্তারা। তাদের অভিযোগ, চেয়ারম্যান সঠিকভাবে সরকারের নীতিনির্ধারকদের তথ্য দেননি, ফলে সংকট সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ ঢাকামুখী ‘মার্চ টু এনবিআর’ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেয়। পরিষদের সভাপতি হাছান মুহম্মদ তারেক রিকাবদার বলেন, “চেয়ারম্যান অপসারণ ছাড়া সংস্কারের আর কোনো পথ নেই। সব পক্ষের মতামতের ভিত্তিতেই পরিবর্তন আনতে হবে।”
