রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্মাণাধীন কাজে বাঁধা দিয়ে সন্ত্রাসীদের চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে ৭-৮ জনের একটি দল ভারী অস্ত্র নিয়ে ক্যাম্পাসে ঢুকে নির্মাণাধীন উন্নয়ন কাজ থেকে চাঁদা দাবি করছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগেও উন্নয়নকাজের ঠিকাদারদের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে সন্ত্রাসীরা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরাপত্তায় কাজ চললেও গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টা ৪৬ মিনিটে পুনরায় চাঁদার দাবিতে সন্ত্রাসীরা সশস্ত্র মহড়া দেয়। এ সময় ঠিকাদারদের শেডে থাকা শ্রমিকদের কাছ থেকে ১০ থেকে ১২টি মুঠোফোন ছিনিয়ে নেয় তারা। কাজ বন্ধ রাখতে শ্রমিকদের হুমকি এবং চাঁদা পরিশোধ না করলে ব্রাশফায়ার করে হত্যা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেয় সন্ত্রাসীরা।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র আরও জানায়, ক্যাম্পাসে প্রশাসনিক ও একাডেমি ভবনের নির্মাণ কাজ চলছে। প্রশাসনিক ভবনের ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬ কোটি ১০ লাখ টাকা ও একাডেমি ভবনের ব্যয় ১৮ কোটি ৩৭ লাখ টাকা।
এ ঘটনায় ২৭ জুন রাঙামাটি কোতয়ালী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ঘটনার পরপরই আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়লেও এখনো কাউকে আটক করা যায়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ে অবকাঠামো উন্নয়ন কাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী মীর হোসেন বলেন, চাঁদা না দেওয়া পর্যন্ত কাজ বন্ধ রাখতে বলেছে সন্ত্রাসীরা। তবে চাঁদা দাবিকারীদের পরিচয় সনাক্ত করা যায়নি।
রাঙামাটি কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাহেদ উদ্দিন বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. আতিয়ার রহমান এ ঘটনাকে দুঃখজনক উল্লেখ করে বলেন, এর আগে সিসিটিভি ফুটেজ না থাকায় কারা চাঁদা চাইতে এসেছিল জানা যায়নি। তবে এবার কারা এসেছে আমরা জানতে পেরেছি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিরা বিষয়টি অবশ্যই গুরুত্ব সহকারে দেখবেন।
