চট্টগ্রাম কাস্টমসে দ্বিতীয় দিনের মতো শাটডাউন, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম অচল

আপডেট : ২৯ জুন ২০২৫, ২০:৩১

দ্বিতীয় দিনের মতো শাটডাউন কর্মসূচি পালন করায় অচলাবস্থার মধ্যে পড়েছে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম। কাস্টমস, ভ্যাট এবং কর বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা রোববারও চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসে কর্মবিরতি পালন করেন, ফলে স্থবির হয়ে পড়ে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম।

কাস্টমস কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতির কারণে রপ্তানি করা যায়নি অন্তত ৩ হাজার ৬৮০টি কনটেইনার—যার সিংহভাগই পোশাকপণ্য। এই পণ্যসম্ভার সময়মতো পৌঁছানো না গেলে বিদেশি ক্রেতাদের কাছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন রপ্তানিকারকরা।

চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব ও মুখপাত্র মো. ওমর ফারুক বলেন, "বন্দরের সব বিভাগ খোলা থাকলেও কাস্টমস কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতির কারণে পণ্য খালাস বন্ধ রয়েছে। ফলে ব্যবসায়ী ও রপ্তানিকারকরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।"

বাংলাদেশ ইন্ডল্যান্ড ডিপো অ্যাসোসিয়েশনের (বিকডা) মহাসচিব মো. রুহুল আমিন সিকদার জানান, "২১টি ডিপোতে রপ্তানি চালান জমা হয়ে গেছে। কোনো চালান শুল্কায়ন হচ্ছে না। এর ফলে শুধু রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে না, রাজস্ব আদায়েও মারাত্মক প্রভাব পড়ছে।"

চট্টগ্রামের ইসহাক ডিপোতে আটকে থাকা একটি চালানের কথা উল্লেখ করে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের প্রতিনিধি মো. মাহবুবুর রহমান জানান, "শুক্রবার আমাদের একটি চালান এসেছে, কিন্তু শুল্কায়ন করা যাচ্ছে না কাস্টমস কর্মকর্তাদের কর্মবিরতির কারণে।"

এ পরিস্থিতিতে রোববার এক বিবৃতিতে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, জাতীয় স্বার্থে কাস্টম হাউস, বন্ড কমিশনারেট, শুল্ক স্টেশনসহ এনবিআরের আওতাধীন সকল সেবা ‘অত্যাবশ্যকীয় সার্ভিস’ হিসেবে ঘোষণা করা হচ্ছে। সরকার বলেছে, আন্দোলনরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দ্রুত কাজে যোগ দিতে হবে, না হলে দেশের অর্থনীতি ও জনস্বার্থ সুরক্ষায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের ডাকে এই শাটডাউন কর্মসূচি চলছে। এর আওতায় সারাদেশের রাজস্ব দপ্তরে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ এবং ‘মার্চ টু এনবিআর’ কর্মসূচি পালন হচ্ছে। তবে আন্তর্জাতিক যাত্রীসেবা এই কর্মসূচির বাইরে রাখা হয়েছে।

কাস্টমস কর্মকর্তারা সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে অনিচ্ছুক থাকলেও সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, চট্টগ্রাম বন্দরে এভাবে কার্যক্রম বন্ধ থাকলে দিনে দিনে পণ্যজট আরও বাড়বে এবং বৈদেশিক বাণিজ্যে ভয়াবহ প্রভাব পড়বে।

ইত্তেফাক/এএম