ম্যাগাজিন থেকে মিসাইল, উপদেষ্টার কল্পনার উড়াল: আনিস আলমগীর

আপডেট : ৩০ জুন ২০২৫, ২৩:২৫

সিনিয়র সাংবাদিক আনিস আলমগীর বলেছেন, “আসিফ মাহমুদের হাতব্যাগে ম্যাগাজিন ধরা পড়েছে বিমানবন্দরে—এ ঘটনার নানা সমালোচনার মুখে তিনি আরেকটি ফেসবুক পোস্ট প্রসব করেছেন। লিখেছেন, ‘গতকালকের ঘটনায় এটা বুঝতে পারলাম যে, পিস্তল কেন, মিসাইল সঙ্গে রাখলেও আমি, আপনি কেউই নিরাপদ নই।’”

সোমবার রাতে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি আরো বলেন, “এখন তার চোখে এই ঘটনার সচিত্র প্রকাশ পাওয়াটা ‘তথ্য পাচার’, ‘রিয়েল-টাইম লোকেশন’, ‘বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা’, এমনকি ‘মিসাইল’ পর্যন্ত পৌঁছে গেছে! বাহ, একজন উপদেষ্টার কল্পনাশক্তি যদি এতই প্রবল হয়, তবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ছেড়ে গোয়েন্দা সংস্থা চালালে ভালো হতো। আরো ভালো হতো নেটফ্লিক্স সিরিজে নাম লেখালে।”

আনিস আলমগীর বলেন, ‘তিনি যেটা বুঝতে পারছেন না বা বুঝেও এড়িয়ে যাচ্ছেন : ম্যাগাজিন আপনার ব্যাগেই ছিল। সেটা কি সিসিটিভি ফাঁসকারীরা রেখে গিয়েছিল? সিসিটিভি ফুটেজ ফাঁস হওয়া নিশ্চয়ই গুরুতর ইস্যু। কিন্তু তার আগে তো আপনার অপরাধমূলক গাফিলতি নিয়ে প্রশ্ন! আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে অস্ত্র বহন কোন যুক্তিতে বৈধ?’

তিনি বলেন, ‘সরকারে থেকেও নিরাপদ না’— এই কান্না আপনি কাকে দেখাচ্ছেন? আপনি তো নিজেই সরকারি নিরাপত্তা বাদ দিয়ে নিজের অস্ত্র রাখার প্রয়োজনীয়তা দেখিয়েছেন। সেটা কি অবিশ্বাস, নাকি ক্ষমতার বাহাদুরি? ‘চরিত্রহনন চলছে’—এই ভাষা তখনই খাটে, যখন চরিত্রটুকু অক্ষত থাকে।

কিন্তু আপনি তো প্রতিদিন নিজেই নতুন নতুন বক্তব্য দিয়ে নিজের কথার বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছেন। ‘গণ-অভ্যুত্থানের নেতৃত্বে কিছু হলে বোঝা যাবে কারা করেছে’—এটা হুমকি, না আত্মসন্তুষ্টির ঘোষণা? অস্ত্র নিজের, ব্যাগ নিজের, স্ক্যান্ডাল নিজের—আর ষড়যন্ত্র সব অন্যের!

সিনিয়র সাংবাদিক আনিস আলমগীর বলেন, এত সব নাটকের পরও বাস্তবতা হলো : এখনো কেউ জানে না, তিনি অস্ত্রের লাইসেন্স কবে পেয়েছেন। জানেন না, অস্ত্রটি কী ধরনের। ব্যাখ্যা নেই, কেন তিনি নিজেই অস্ত্র হাতে রাখেন যখন সরকার তাকে প্রটোকল দেয়।

উত্তর নেই, এই অস্ত্র কেনার টাকা কোথা থেকে এলো। দায় স্বীকার নেই, বরং দোষ চাপিয়ে দিচ্ছেন প্রটোকল কর্মকর্তার ঘাড়ে। একজন সাধারণ নাগরিক একই কাজ করলে তাকে হয়তো এখনো জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়তে হতো। অথচ তিনি আজও নির্দ্বিধায় স্ট্যাটাস দিয়ে অন্যদের ঘাড়ে দোষ চাপাচ্ছেন।

তিনি বলেন, ‘তিনি এই সেই ব্যক্তি : যিনি নিজের পিএস ও মন্ত্রণালয় নিয়ে ঘুষের অভিযোগে আলোচিত, সেনাপ্রধানের অভ্যন্তরীণ আলোচনা টেলিভিশনে সাক্ষাৎকার তুলে ধরেন, নিজ এলাকায় ক্ষমতার অপব্যবহারে অভিযুক্ত হন বিএনপি মহাসচিব দ্বারা, আর এখন নিজেকে বিপ্লবের রক্ষাকর্তা হিসেবে উপস্থাপন করছেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘এই সব মিলিয়ে প্রশ্নটা খুব স্পষ্ট : এই কি একজন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টার দায়িত্বশীলতা, যোগ্যতা ও শুদ্ধাচার? তিনারা আমাদের উপহার দেবেন অভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন বাংলাদেশ?’

ইত্তেফাক/এমএএম