টেকনাফে ট্রেনিংয়ের কথা বলে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া, চার মাস ধরে নিখোঁজ ৩ কিশোর

আপডেট : ০১ জুলাই ২০২৫, ১১:৪৯

টেকনাফের প্রত্যন্ত অঞ্চল হোয়াইক্যং উনচিপ্রাং এলাকার বাসিন্দা মো. রেদোয়ান (১৫)। তার বয়সটা কম হলেও অনেক বড় স্বপ্ন নিয়ে প্রায় চার মাস আগে ছেড়েছিলেন বাড়ি। কথা ছিল টেকনাফের একটি এনজিওতে প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজেকে দক্ষ করে তুলবে রেদোয়ান। তারপর ধীরে ধীরে পরিবারকে মুক্ত করবে দরিদ্রের কষাঘাত থেকে।

কিন্তু সেই ট্রেনিং আর করা হয়নি তার। এমনকি গত চারমাস ধরে রোদোয়ান নামে ওই কিশোরের হদিসও মিলছে না। 

রেদোয়ানের পরিবার অভিযোগ তুলেছে, টেকনাফে  একটি এনজিওতে ট্রেনিংয়ের কথা বলে তাকে নিয়ে যায় স্থানীয় দালাল চক্র। এরপর মালয়েশিয়া পাঠানোর নাম করে পরিবার থেকে আদায় করা হয় মোটা অঙ্কের টাকা। এ ঘটনার প্রায় চার মাস হলেও রেদোয়ানের হদিস মিলছে না।   

একইভাবে গত চার মাস ধরে নিখোঁজ রয়েছে একই গ্রামের আরও দুই তরুণ।

তারা হলেন-মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে মো. দেলোয়ার হোসেন (১৪) ও মোকতার আহমেদের ছেলে মো. রাসেল (১৬)। 

ভুক্তভোগী পরিবার বলছে, সমুদ্র পথে মালয়েশিয়া নেওয়ার কথা বলে তিন কিশোরকে নিয়ে যায় দালাল চক্র। তারপর প্রায় চারমাস ধরে নিখোঁজ তিনজনই। তারা আদৌ জীবিত আছে কি-না কিংবা তাদের শেষ পরিণতি কি হয়েছে তা জানা নেই কারো। 

মো. রেদোয়ানের বাবা শামসুল আলম বলেন, আমরা খুব অসহায় পরিবার, কৃষি ও চিংড়ি ঘেরে কাজ করে কোন রকম সংসারের খরচ জোগাড় করি। এরমধ্যে গত ৪ মাস আগে আমার ছেলে রেদোয়ানসহ আরও দুজনকে একটি এনজিওতে ট্রেনিংয়ের কথা বলে টেকনাফ পাঠানো নিয়ে দালাল আবুল কালাম, মো. ইব্রাহিম, নুর হোসেনসহ দালাল চক্র। পরে তারা আর ফিরেনি পরে শুনেছি তাদের মালয়েশিয়া পাচারের জন্য সাগরে ট্রলারে তুলে দেওয়া হয়েছে। 

তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় জানাজানি হলে দালাল চক্র আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বলে, আপনাদের ছেলে আমাদের কাছে আছে। তাদেরকে সাগর পথে মালয়েশিয়া পাঠানো হচ্ছে। তাই জনপ্রতি আগে দুই লাখ টাকা দিতে হবে। মালয়েশিয়া পৌঁছালে বাকি আরও দুই লাখ দিতে হবে। এভাবে বলার পরে দালালদের সন্তানের জন্য তিনজনের জন্য ৬ লাখ টাকা দেওয়ার পরেও চার মাস হলো তাদের কোনো খোঁজ খবর নেই।

আরেক ভিকটিম দেলোয়ারের মা রোকেয়া বেগম বলেন, কেঁদে কেঁদে ছেলে ফিরে আশার অপেক্ষায় ৪ মাস ধরে দিন গুনছি। কিন্তু আমার কলিজার টুকরা সন্তান বাড়ি ফিরে আসছে না। দালালদের খপ্পরে পড়ে সাগর পথে মালয়েশিয়া যেতে গিয়ে আমার সন্তান নিখোঁজ হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় কক্সবাজার আদালতে দুটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলা দুটি বর্তমানে কক্সবাজার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত করছে এবং টেকনাফ মডেল থানায় অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চেয়ে আবুল কালাম এবং মো. ইব্রাহিমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাদের সন্ধান পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর থেকে তারা পলাতক রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এমনকি তাদের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরগুলোও বন্ধ পাওয়া গেছে।

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন বলেন, মাদক ও মানব পাচারকারীসহ দুষ্কৃতিকারীদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলমান। তবে মানব পাচারের শিকার উনচিপ্রাং এলাকার ঘটনা তদন্তে হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/এপি