টেসলার ভর্তুকি বন্ধের হুমকি ট্রাম্পের, মাস্কের জবাব- ‘সবই তুলে দিন’

আপডেট : ০১ জুলাই ২০২৫, ১৪:৩০

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ধনকুবের ইলন মাস্কের মধ্যে চলমান দ্বন্দ্ব নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। আলোচিত ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল’ ঘিরে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে ট্রাম্প এবার টেসলাসহ মাস্কের প্রতিষ্ঠানগুলোকে দেওয়া সরকারি ভর্তুকি বন্ধের হুমকি দিয়েছেন। জবাবে মাস্ক পাল্টা মন্তব্য করে বলেন, 'সব ভর্তুকিই তুলে দিন, এখনই বন্ধ করুন।'

রোববার (২৯ জুন) ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে বলেন, ইলন মাস্ক সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভরশীল এবং এগুলো বন্ধ হলে তাকে ব্যবসা গুটিয়ে নিজের দেশ দক্ষিণ আফ্রিকায় ফিরে যেতে হতে পারে। এই মন্তব্যের জবাবে মাস্ক তার এক্স (পূর্বের টুইটার) অ্যাকাউন্টে লেখেন, 'আমি সত্যিই বলছি-সব ভর্তুকি বন্ধ করুন।'

টেসলা ও স্পেসএক্সের প্রতিষ্ঠাতা মাস্ক একসময় ট্রাম্প প্রশাসনের ‘ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিসিয়েন্সি’ বা DOGE-এর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তবে গত মে মাসে তিনি সেই পদ থেকে সরে দাঁড়ান। এরপর থেকেই দুজনের সম্পর্কে টানাপড়েন দেখা যায়, বিশেষ করে ট্রাম্পের প্রস্তাবিত বিল নিয়ে মতবিরোধের পর তা তীব্র আকার নেয়।

এই বিলের বিরোধিতা করায় ট্রাম্প একাধিকবার মাস্ককে প্রকাশ্যে আক্রমণ করেছেন। তিনি দাবি করেন, মাস্ক ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি ভর্তুকি পাওয়া ব্যক্তি এবং ইভি (ইলেকট্রিক ভেহিকল) ম্যান্ডেটের বিপক্ষে থাকা সত্ত্বেও মাস্ক সরকার-নির্ধারিত সুবিধা নিয়ে ব্যবসা করছেন। ট্রাম্প বলেন, 'ইলেকট্রিক গাড়ি ঠিক আছে, কিন্তু তা সবাইকে কিনতে বাধ্য করা ঠিক না।' তিনি আরও বলেন, 'আর কোনো রকেট উৎক্ষেপণ, স্যাটেলাইট বা ইভি উৎপাদন নয়-এসব বন্ধ করলেই দেশের বিপুল অর্থ সাশ্রয় হবে।'

এদিকে, ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন যে, মাস্কের ব্যবসায়িক কার্যক্রমের বিষয়ে তদন্ত চালানোর জন্য ডজ (DOGE) ব্যবহার করা যেতে পারে। তার ভাষায়, 'হয়তো বলাই উচিত-ডজ ভালোভাবে তদন্ত করুক, যাতে শত শত কোটি ডলার বাঁচানো যায়।'

‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল’ ট্রাম্পের রাজনৈতিক জীবনের একটি প্রধান মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এতে তার প্রথম মেয়াদে দেওয়া কর ছাড়ের মেয়াদ দীর্ঘায়িত হবে, পাশাপাশি সীমান্ত নিরাপত্তা, সামরিক ব্যয় এবং অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে বড় বাজেট নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এর বিপক্ষে সমালোচকরা বলছেন, এই বিলের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ অন্তত ৩ ট্রিলিয়ন ডলার বাড়বে এবং লাখো দরিদ্র নাগরিক স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হবেন।

বিলটি নিয়ে সিনেটে যখন ভোটাভুটি চলছে, তখন মাস্ক রিপাবলিকানদের বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় সমালোচনা করে বলেন, 'এটি এক ধরনের ঋণের দাসত্ব।' মঙ্গলবার এক্স-এ পোস্ট করা আরেক বার্তায় তিনি লিখেন, 'আমি শুধু বলছি-দয়া করে আমাদের দেশকে দেউলিয়া করে দেবেন না। যদি ঋণসীমা বারবার বাড়ানো হয়, তাহলে এর আর কোনো অর্থ থাকে না।'

ট্রাম্প-মাস্ক দ্বন্দ্বে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অঙ্গন এখন আরও উত্তপ্ত। মাস্ক ইতিমধ্যে নতুন রাজনৈতিক দল ‘আমেরিকা পার্টি’ গঠনের হুমকি দিয়েছেন, যা এই বিতর্কের মাত্রা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

ইত্তেফাক/টিএইচ