মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, হালদার পাড়ে তামাক চাষ কোন মতে গ্রহণযোগ্য নয়। যারা তামাক চাষ করেন, তারা আমাদের কাছে আসুন, আমরা আপনাদের সহযোগিতা করব। সারা বাংলাদেশে কখন তামাক চাষ বন্ধ হবে সেটা পরের বিষয়, তবে হালদার পাড়ে অবিলম্বে তামাক চাষ বন্ধ করতে হবে।
তিনি বলেন, রাবার ড্যাম কৃষকদের তেমন কোনো উপকারে আসে না। এটি চা বাগানের পানি সরবরাহের জন্য ব্যবহার হচ্ছে। আমরা চা বাগানের জন্য হালদাকে ধ্বংস হতে দিবো না। রাবার ড্যাম তুলে নেওয়া হবে এবং পরিত্যক্ত গেটওয়ে অপসারণ করা হবে। এক কথায়, হালদা নদীর ক্ষতি করে এমন সব কাজ বন্ধ করতে হবে।
মঙ্গলবার (১ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার মোবারকখিলে চট্টগ্রাম মৎস্য অধিদপ্তরের ব্যবস্থাপনায় হালদার অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ফরিদা আখতার আরও বলেন, “আমি নিজ চোখে হালদায় কালো পানি দেখেছি, যা বুড়িগঙ্গায় রয়েছে। নিজের নাকে গন্ধ পেয়েছি, যা বুড়িগঙ্গায় রয়েছে। বুড়িগঙ্গায় যে দূষণ হয়, তা হালদা নদীতে হওয়ার কথা নয়। এই শিল্প দূষণ অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। আমি শিল্প মন্ত্রণালয়, পরিবেশ মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় সরকারের সঙ্গে এই দূষণ বন্ধে কথা বলব।”
সভায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবদুর রউফ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন হালদার প্রকল্প পরিচালক মিজানুর রহমান। এছাড়া বক্তব্য রাখেন হালদা পাড়ের সন্তান সাবেক মুখ্য সচিব আব্দুল করিম, চট্টগ্রাম প্রাণীবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও হালদা গবেষক ড. মো. মনজুরুল কিবরিয়া, কৃষিবিদ মো. নাসিম হায়দার, হালদা রক্ষা কমিটির সেক্রেটারি সাংবাদিক মো. আলী এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলের নৌপুলিশের পুলিশ সুপার আফম নিজাম উদ্দিন পিপিএম (বার)। মোবারকখীল হ্যাচারির পরিচালক মো. সালাউদ্দিন শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন।
রাউজান সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন আজাদী ও হাছান আহছানুল কবিরের পরিচালনায় সভায় উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ড. আবু নঈম মুহাম্মদ আবদুছ ছবুর, মো. হেমায়েত হোসেনসহ চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ির জেলা মৎস্য কর্মকর্তাবৃন্দ, রাউজান ও হাটহাজারীর ইউএনওদ্বয়সহ দুই উপজেলার প্রশাসনিক কর্মকর্তাবৃন্দ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাউজান ও হাটহাজারী উপজেলার ডিম সংগ্রহকারী, জেলে, খাগড়াছড়ির তামাক চাষী ও স্থানীয় সাংবাদিকবৃন্দ, যারা তাদের মতামত ও নানা দাবি তুলে ধরেন।
সভা শেষে হালদা নদীর মা মাছ ও পরিবেশ রক্ষায় নজরদারি ও অবৈধ কার্যক্রম বন্ধের জন্য চারটি ড্রোন উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি। এসব ড্রোন দিয়ে মৎস্য অধিদপ্তরের ১২টি দল নদী পর্যবেক্ষণ করবে। প্রতিটি ড্রোনের দাম সাত লাখ টাকা।
এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা মোবারকখীল হ্যাচারিতে উৎপাদিত হালদার রুই জাতীয় মাছের পোনা নদীতে অবমুক্ত করেন এবং হ্যাচারী পরিদর্শন করেন। পরে তিনি হালদা নদীর ২০ কিলোমিটার পরিদর্শন করেন।
